বাগেরহাটের চিতলমারিতে দুপক্ষের সংঘর্ষে মোজাফফর হোসেন খান নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কাননচক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোজাফফর হোসেন খান কাননচক গ্রামের বাসিন্দা ও চিতলমারি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।
চিতলমারি থানার ওসি মো. ইকরাম হোসেন কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মেয়েসংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দুপক্ষকে শান্ত করে। পরে তারা চলে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, তবে কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন নিহত ব্যক্তিকে থাপ্পড় মারা হয়েছিল। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
জানা গেছে, হিজলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে বেলা ১১টার দিকে কাননচক গ্রামের সজিব খান নামে এক যুবককে তুলে নিতে যান হিজলা এলাকার কাজী শাহেদসহ কয়েকজন। এ সময় কাননচক গ্রামের লোকজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজী শাহেদসহ তুলে নিতে আশা লোকজনকে বেধড়ক পেটান।
পরে হিজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবু শাহীন ও আওয়ামী লীগ নেতা লিটন কাজীর নেতৃত্বে প্রায় ২০০ জন লোক কাননচক গ্রামে যান। তখন কলাতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া শেখের নেতৃত্বে কাননচক এলাকার লোকজন একত্রিত হয়।
এ সময় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। এতে কয়েকজন আহত হযন। গুরুতর আহত আওয়ামী লীগ নেতা মোজাফফর খানকে টুংগীপাড়া হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের জামাতা স্বাধীন শেখ বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। পারিবারিকভাবে আলোচনা করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হবে।
কলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া শেখ বলেন, হিজলার লোকজন ঝামেলা করার জন্য ঢাল-সড়কি নিয়ে এসেছিল। পুলিশের সামনেই ঘটনা ঘটেছে। আমি উত্তেজনা থেমে যাওয়ার পরে আসছি।
ঘটনার পর থেকে হিজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবু শাহীনের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
মন্তব্য করুন