যশোরে পোষা বিড়ালে প্রতিবেশীর কবুতর খাওয়াকে কেন্দ্র করে তুঘলকি কাণ্ড ঘটেছে। এমনকি এ ঘটনার জেরে থানা পুলিশ হয়ে শেষ পর্যন্ত বিড়ালের মালিককে যেতে হয়েছে জেলখানায়।
শনিবার (১৫ জুলাই) বিড়ালটির মালিক হেলাল শেখকে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। তিনি সদর উপজেলার জঙ্গলবাধাল মোল্লাপাড়ার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হেলাল শেখ দীর্ঘদিন ধরে শখের বসে বিড়াল পোষেন। আর তার প্রতিবেশী মোবাচ্ছের মোল্লা বাড়িতে শখের বসে খাঁচায় করে কবুতর পোষেন। তবে প্রায়ই হেলাল শেখের বিড়াল পাশের বাড়ির কবুতর খাওয়ার চেষ্টা করে।
বিষয়টি নিয়ে কবুতরের মালিক বারবার তাগিদ বিড়ালের মালিককে বলেন, পোষা বিড়াল তুমি সামলিয়ে রাখো, না হলে কবুতরের ক্ষতি হবে। তবুও বিষয়টি এভাবেই চলছিল।
সর্বশেষ গত শুক্রবার (১৪ জুলাই) রাতে বিড়ালটি ওই বাড়িতে যেয়ে একটি কবুতর ধরে খেয়ে ফেলে। এ সময় কবুতরের মালিক দেখতে পেয়ে কৌশলে বিড়ালটি ধরে রাখেন। এমনকি, এই ক্ষতির জন্য হালকা চিল্লাচিল্লি করতে থাকলে বিড়ালের মালিক হেলাল শেখ ওই বাড়িতে গিয়ে একটি পিস্তল প্রদর্শন করে ভয়ভীতির মাধ্যমে খুন-জখমের হুমকি দেন।
এ সময় কবুতরের মালিক ভয়ে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে তাকে ধরার চেষ্টা করলে হেলাল শেখকে ধরে ফেলে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পান, প্রকৃতভাবে এটা খেলনা পিস্তল। তারপরও ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিড়ালের মালিক হেলাল শেখকে খেলনা পিস্তলসহ পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে এ ঘটনায় কবুতরের মালিক সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের জঙ্গলবাধাল মোল্লাপাড়ার মোহাম্মদ আলী মোল্লার ছেলে মোবাচ্ছের মোল্লা বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় বিড়ালের মালিক হেলাল শেখকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
মন্তব্য করুন