কুমিল্লার হোমনায় পরকীয়ার জেরে প্রবাসী মো. আব্দুল জলিলকে হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ চারজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (২৭ মার্চ) অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আবু ইউসুফ মুন্সী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি কালবেলাকে বলেন, দীর্ঘ তদন্ত ও শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় মোট ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আদালত চারজনকে মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
মামলার অপর আসামি মো. শাহজাহান নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি পলাতক ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- কুমিল্লা হোমনা উপজেলার কারার কান্দি গ্রামের মো. কুদ্দুস মিয়া (৩২), একই উপজেলার মঙ্গলকান্দি গ্রামের মাইক্রোবাসচালক আ. খালেক (২৮) ও কারার কান্দি গ্রামের মো. রাজিব (২৬) এবং নিহতের স্ত্রী মোসা. শাহনেওয়াজ বেগম। বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত আসামি হলেন–হোমনা উপজেলার গোয়ারী ভাঙ্গা গ্রামের মো. শাহ জাহান (৪২)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আসামি মো. শাহ জাহানের সঙ্গে নিহতের স্ত্রী শাহনেওয়াজ বেগমের পরকীয়া ছিল। এরই জের ধরে ২০১৩ সালের ৯ জুন আসামিরা যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সৌদিপ্রবাসী মো. আব্দুল জলিলকে (৪৫) চিকিৎসা করানোর কথা বলে বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
পথিমধ্যে হোমনা উপজেলার বাহেরখোলা গ্রামের কেরামত আলীর মাজার সংলগ্ন এলাকায় ধারালো ছুরিকাঘাতে আব্দুল জলিলকে গলা কেটে জবাই করে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়। নিহতের স্বজনরা হাসপাতাল ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পায়নি। পরে লোকমুখে জানতে পারে যে, কেরার মাজার সংলগ্ন পাকার রাস্তার পশ্চিম পাশে অজ্ঞাত একজনের লাশ পড়ে আছে। তখন নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
নিহতের ছোট ভাই মো. তাইজুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামাদের আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুল আল বাকি তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুছ, আব্দুল খালেক, রাজিব ও মূল পরিকল্পনাকারী নিহতে স্ত্রী শাহনেওয়াজ বেগমকে গ্রেপ্তার করেন। পরে পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন