নরসিংদী সদরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে ৯ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের আলোকবালীতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের নৌকা ও স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
আহতরা হলেন শীতল মিয়া (৩০), বজলু মিয়া (৫২), মো. মনিরুজ্জান (৪৫), আবদুর রহমান (১৮), খোকা মিয়া (২৮), আরিফুল (১৯), রমজান (২৫), মোজাম্মেল (১৮), আল মাফুজ (১৮), আমজাদ (২০) এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের পাঁচ থেকে ছয়জন। আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে আলোকবালীর বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দীপুর সঙ্গে ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসাদ উল্লাহর দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এর জের ধরে তাদের মধ্যে একাধিকবার হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসাদ উল্লাহ ছিলেন ঈগল প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে এবং ইউপি চেয়ারম্যান দীপু নৌকার পক্ষে। ওই নির্বাচনের পর থেকে আসাদের বেশ কয়েকজন সমর্থক গ্রামছাড়া ছিল। তারা বুধবার রাতে গ্রামের বাড়িতে ফেরে। এরপর দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আওয়ামী লীগ নেতা আসাদ উল্লাহ বলেন, ভোর রাত ৫টার দিকে চেয়ারম্যান সমর্থকরা অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় অন্তত ২০টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
পাল্টা অভিযোগ করে ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপু বলেন, নির্বাচন ও গ্রামের মানুষের ওপর হামলা করার পুরোনো মামলায় আসাদের সমর্থক কিছু মানুষ গ্রামছাড়া। তারা বুধবার ভোরে ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের নিয়ে গ্রামে এসে আমার সমর্থকদের ওপর হামলা এবং গুলি চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমাদের ৯ জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে।
সদর হাসপাতালে আরএমও ডা. মাহামুদুল বাশার কমল জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নরসিংদী সদর থানার ওসি তানভীর আহমেদ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে গুলির খবর পাইনি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।