মাদারীপুরে শ্মশান কালি মন্দিরের তালা ভেঙে প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও মন্দির কমিটির সদস্যরা। এ ঘটনায় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নে হিন্দু অধ্যুষিত চৌহদ্দি গ্রামে ‘চৌহদ্দি সার্বজনীন শ্মশান কালি মন্দির’টি গত তিন বছর আগে নির্মাণ করা হয়। গ্রামের একটি রাস্তার পাশে টিনশেট মন্দিরটি স্থাপনের পর থেকে নির্দিষ্ট কোনো পুরোহিতের মাধ্যমে প্রতিদিন পূজা-অর্চনা না করলেও, প্রতি বছরই এইদিনে মন্দিরে কালি দেবীর জাঁকজমকভাবে পূজা অর্চনার আয়োজন করা হয়। পূজা শেষে সাধারণত মন্দিরটি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত মন্দিরটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কালি দেবীর গলা থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ও চারটি হাত ভেঙে ফেলে। সেই সাথে মহাদেবের প্রতিমাটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে বুধবার সকালে লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
এ বিষয়ে চৌহদ্দি সার্বজনীন শ্মশান কালি মন্দির কমিটির সভাপতি জগদীশ চন্দ্র বৈদ্য ও সাধারণ সম্পাদক অখিল বিশ্বাস কালবেলাকে বলেন, তিন বছর আগে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতি বছর নির্দিষ্ট দিনে মন্দিরে পূজা হয়। কে বা কারা তালা ভেঙে মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করে, প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। যারা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মাদারীপুর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রাণতোষ মণ্ডল কালবেলাকে বলেন, মন্দিরটিরের প্রতিমা যারা ভেঙে ফেলেছে, তাদের চিহ্নিত করে পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি করছি।
এই বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন কালবেলাকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কিন্তু কে বা কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত এখন শনাক্ত না হলেও, অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে কালবেলাকে বলেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা কঠিন হবে।
মন্তব্য করুন