বগুড়ার শিবগঞ্জে গৃহবধূকে ১০১টি দোররা মেরে চাচি ভাতিজাকে বিয়ে দিয়ে গ্রামছাড়া করার ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (১১ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার (১০ জুলাই) ঘটনার দিন রাতে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে আটজনের নামে মামলা করলে তাদের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আটমূল ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) জিল্লুর রহমান, পশ্চিম জাহাঙ্গীরাবাদ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহিনুর রহমান, কাজীর সহকারী ইলিয়াস আলী ফকির এবং মালোগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মোজাফফর মন্ডল, তোজাম মন্ডল ও মোজাম্মেল হক।
জানা গেছে, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের মালোগাড়ি গ্রামে গত ৮ জুলাই রাতে চাচি ও ভাতিজাকে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে পরেরদিন ৯ জুলাই সালিশে তাদের দোররা মারা হয়। একপর্যায়ে ওই গৃহবধূকে দিয়ে তার স্বামীকে তালাক প্রদানের পর ভাতিজার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় এবং বিকেলে তাদের গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করা হয়। ১০ জুলাই সংবাদকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের বক্তব্য জানতে গেলে তৎপর হয় পুলিশ। তারা ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ ও তার ভাতিজাকে থানায় ডেকে নেয়। এরপর গৃহবধূ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, তার স্বামী প্রবাসে থাকেন। এ কারণে সংসারের বিভিন্ন কাজে তিনি প্রতিবেশী ওই ভাতিজার সহায়তা নিতেন। শনিবার রাতে প্রতিবেশী ভাতিজাকে সাংসারিক কাজে বাড়িতে ডাকেন। রাত ১১টার দিকে গ্রামের কিছু লোক অনৈতিক কাজের অভিযোগ তুলে তাদের একটি ঘরে সারারাত আটকে রাখেন। পরদিন সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে তাদের দুজনকে ঘর থেকে বের করে মারধর করা হয়। পরে গ্রামে সালিশ বসিয়ে প্রবাসে থাকা তার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়। এরপর ওই বৈঠকে উপস্থিত পশ্চিম জাহাঙ্গীরাবাদ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহিনুর রহমান তাদের দুজনকে ১০১টি করে দোররা মারার নির্দেশ দিলে একই গ্রামের আজাদুল ইসলাম বাঁশ দিয়ে দোররা মারেন। এরপর ২ লাখ টাকা মোহরানা নির্ধারণ করে প্রতিবেশী ওই ভাতিজার সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়। এই মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার রাতেই ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।
শিবগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রউফ বলেন, ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা দায়ের করার পরপরই ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অপর দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন