মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৬৬১ জনের অ্যাকাউন্টে নির্ধারিত টাকার চেয়ে মাথাপিছু অতিরিক্ত ১ লাখ ২ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (এমএফএস) নগদ। এর মধ্যে ৮৯০ জন সুবিধাভোগী প্রায় ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা তুলে খরচ করে ফেলেছেন।
জানা গেছে, সার্ভারে কারিগরি ত্রুটির জন্য উপজেলার আটটি ইউনিয়নের সুবিধাভোগীদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে প্রকৃত পারিশ্রমিক ৯ হাজার ২০০ টাকার সঙ্গে আরও অতিরিক্ত ১ লাখ ২ হাজার টাকা জমা হয়ে যায়। এদিকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের চিঠি দিয়েছেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় ৩৬ দিনের একটি প্রকল্প চলমান ছিল। আটটি ইউনিয়নের ২ হাজার ৬৬১ জন দরিদ্র লোকজন মাটি কেটে গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা সংস্কারের কাজ করেন। প্রকল্পের ১৩ দিনের পারিশ্রমিক মাথাপিছু ৫ হাজার ২০০ টাকা জমা হয়। পরে ঈদের আগে ২৪ জুন সন্ধ্যায় বাকি ২৩ দিনের জন্য ৯ হাজার ২০০ টাকা করে আসে। পরে মোবাইলে নগদ অ্যাকাউন্টে দেখা যায় তিনটি খুদেবার্তায় মাথাপিছু ১ লাখ ২ হাজার টাকা জমা হয়েছে। তাৎক্ষণিক ৮৯০ জন অতিরিক্ত প্রায় ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা তুলে নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা লোক পাঠিয়ে তাদের টাকা তুলতে নিষেধ করেন। পরে নগদ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ায় বাকিরা টাকা উত্তোলন করতে পারেননি।
সরেজমিনে উপজেলার রাজাপুর, বালিদিয়া, বাবুখালী, পলাশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় সুবিধাভোগীদের ভিড়। সবাই অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করে খরচ করে ফেলেছেন। তাদের সবাইকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানরা নিজেদের পরিষদে ডেকে আনেন।
মো. মিজান, তোরফান, মোরাদ সর্দার,রিপন মালি, ইকতিয়ার মোল্যা, নয়ন মোল্যা, রেহেনা বেগম ও আরজ আলীসহ ১০-১৫ জানান, তারা সবাই পেশায় দিনমজুর ও ভ্যানচালক। মোবাইলের নগদ অ্যাকাউন্টে টাকা আসার পর তুলে খরচ করে ফেলেছেন তারা।
তারা জানান, অতিরিক্ত এই টাকা এখন কীভাবে ফেরত দেবেন তা নিয়ে চিন্তিত। তবে কিস্তির সেই টাকা শোধ করার জন্য চেয়ারম্যানদের কাছে সময় চেয়েছেন।
মহম্মদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোমিনুল ইসলাম জানান, নগদের সার্ভারে কারিগরি ত্রুটির জন্য প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা চলে যায়।
১ নম্বর রাবুখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মীর সাজ্জাদ হোসেন, ২ নম্বর বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শিকদার মিজানুর রহমান, সদর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ইকবাল আক্তার কাফুর উজ্জ্বল জানান, অতিরিক্ত উত্তোলিত কিছু টাকা আদায় হয়েছে। বাকি টাকা আদায়ের চেষ্টা চলছে। টাকা তুলে খরচ করে ফেলা লোকজন সবাই দরিদ্র দিনমজুর।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রামানন্দ পাল জানান, টাকা ফেরত আনার বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর আমাদের চিঠি দিয়েছে। আমরা ইউপি চেয়ারম্যানদের চিঠি দিয়েছি। অতিরিক্ত টাকা ফেরত আনতে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সহযোগিতায় টাকা ফেরত আনার কাজ চলছে।
মন্তব্য করুন