লালমনিরহাটের সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের মরাসতী নদীর উপর একটি ব্রিজের অভাবে উত্তরাবাগ ও চন্ডিমারি নামক দুই গ্রামের ১০ হাজার মানুষ দেড় যুগ থেকে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। যাদের ভরসা শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষায় নৌকা।
জানা গেছে, সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের উত্তরাপাক এবং চন্ডীমারী গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র উপায় মরাসতী নামক নদীর উপর তৈরি বাঁশের সাঁকো। প্রায় ১৯ বছর আগে স্থানীয়রা নিজেদের অর্থায়নে তৈরি করেন ওই সাঁকো। তখন থেকে প্রায় প্রতি বছরই সংস্কার করে চলছে তাদের যাতায়াত। এই বাঁশের সাঁকো ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। পুরাতন হয়ে গেছে বাঁশের খুঁটি এবং পাতাটন। তবুও উত্তরাপাক এবং চন্ডীমারী গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবারের ১০ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত ওই সাঁকোর উপর দিয়ে যাতায়াত করছেন।
জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মরাসতী নদী পারাপার হতে ঘটেছে নানা দুর্ঘটনা। রাতে কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। মৃত ব্যক্তির লাশ পার করতে পরতে হয় বিড়ম্বনায়। শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করা গেলেও বর্ষায় প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকে গ্রাম দুটি। জনপ্রতিনিধিরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিগত ১৯ বছরেও একটি ব্রিজ তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত একটি ব্রিজ তৈরি করে কষ্ট লাঘবের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সাঁকোর পাশেই বসবাসকারী মিনু বালা বলেন, সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মরাসতী নদী পার হতে গিয়ে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের বই খাতা নিচে পড়ে পানিতে ভিজে গেছে। বর্ষাকালে নৌকাডুবির ঘটনাও ঘটেছে।
চন্ডীমারী গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ আব্দুর রহিম জানান, শুষ্ক মৌসুমে কোনভাবে চলাচল করতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকে গ্রাম দুটি। জনপ্রতিনিধিরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও কেউ কথা রাখেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন বলেন, দীর্ঘদিন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য না থাকার কারণে ব্রিজটি তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ব্রিজটির ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নব নির্বাচিত এমপি আশ্বাস দিয়েছে। জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য তিনি একটি বাঁশের সাঁকোর ব্যবস্থা করেছেন বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন