কুমিল্লার তিতাস উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভায় হামলা চালিয়েছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তিতাস উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ ও দুই ইউপি চেয়ারম্যানকে মারধর করা হয়। পরে সভা পণ্ড হয়ে যায়। সোমবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় তিতাস উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল রাতেই কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সারওয়ার হোসেন ওরফে বাবু (৪২) ও তিতাস উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এ কে এম কামরুল হাসান ওরফে তুষারের নাম উল্লেখ করে তিতাস থানায় মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করা হয়।
তিতাস ইউএনওর কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. নেছার উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা ১১টায় তিতাস উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সম্মেলনকক্ষে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা চলাকালে ১১টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার ও তিতাস উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুলের নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঢুকে পড়েন। তারা সভায় উপস্থিত তিতাস উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ ফকির, বলরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুন্নবী ও সাতানী ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল হক সরকারকে কিলঘুষি মারেন।
তিতাস উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সভার সভাপতি পারভেজ হোসেন সরকার বলেন, সভা চলছে। হঠাৎ করে সারওয়ার কয়েকজনকে নিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। পরে হট্টগোল করেন। আমাদের এক ভাইস চেয়ারম্যান, দুই ইউপি চেয়ারম্যানকে কিলঘুষি দেন। উপজেলা প্রশাসনে আধিপত্য বিস্তার করতে চায় হামলাকারীরা। দরপত্রসহ নানা কাজের নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এ কারণে হামলা করে। আমরা এর বিচার চাই।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তিতাস থানার এসআই খালেকুজ্জামান বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তিতাস উপজেলার রামভদ্রা গ্রামের প্রয়াত দুলাল মিয়ার ছেলে ইয়াকুব আলী ওরফে ইফাতকে (২০) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন