কিশোরগঞ্জের নিকলীতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেও দেখা মেলেনি সূর্যের বইছে শৈত্যপ্রবাহ। কষ্ট করতে হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষদের। ঠান্ডাজনিত ও শ্বাসকষ্টসহ রোগে আক্রান্ত হয়ে ডে-কেয়ার ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসা নিতে আসছেন অনেক রোগী।
শনিবার (১৩ জানুয়ারি) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীতে দেশের সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। বৃহস্পতিবারও নিকলীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।
নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের কৃষক সোলায়মান জানান, এ বছর শীত অনেক বেশি। যার কারণে জমিতে কাজ করতে যাওয়া যাচ্ছে না। হাওরে কাজ করতে গেলে বাতাসে অসুস্থ হয়ে পড়তে হয়। জ্বর, সর্দি ও কাশি লেগেই থাকে।
দিনমজুর খাইরুল ইসলাম বলেন, আমরা হাওড় এলাকার মানুষ দিন আনি দিন খায়। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তাপমাত্রা কম থাকায় বোরো জমিতে কাজ করতে প্রচুর কষ্ট হয়েছে। একদিকে বাতাস আর অন্যদিকে সূর্য না থাকায় আমাদের সারাদিন কষ্ট করতে হয়েছে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে খড় দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শরীরটা গরম করি। ঠান্ডায় হাত-পা ব্যাথা করে।
ভাঙ্গারি ক্রয়ের হকার নুরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার ঠান্ডার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারিনি। আজকেও শনিবার (১৩ জানুয়ারি) ঠান্ডার জন্য বেলা ১১টায় বের হয়েছি। ভাঙ্গারি ব্যবসার কারণে হকারি করতে সকালে পাড়া মহল্লায় ঘুরতে হয়। চারদিকে কুয়াশা আর ঠান্ডার জন্য ব্যবসা খারাপ যাচ্ছে। মানুষজন ঘুম থেকে সকাল সকাল না উঠতে পারায় ভাঙ্গারি কিনতে পারছি না।
নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সজীব ঘোষ জানান, গত ৩ দিনে গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন রোগী শ্বাসকষ্টসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ডে-কেয়ার ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসা নিতে আসছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু। এ মাসে ভর্তি হয়ে ১২ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। ঠান্ডাজনিত রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিকিৎসা সরাঞ্জামাদি রয়েছে।
মন্তব্য করুন