ভোলার বোরহানউদ্দিনে প্রকাশ্যে সিগারেট খাওয়া নিয়ে সিনিয়র-জুনিয়র দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বে মো. সজীব (২০) নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও এক যুবক। এ ঘটনায় পুলিশ বেশ কয়েকজন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড মজম বাজারের পূর্ব পাশে চৌকিদার বাড়ির দরজায় এ ঘটনা ঘটে।
বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সজীব ওই ওয়ার্ডের মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে। সে পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। দুই গ্রুপের একটির নেতৃত্বে ছিলেন- নুরনবী, জিহাদ ও আশিক।
আরেকটির নেতৃত্বে ছিলেন- রায়হান, জিহাদ ও ইয়ামিন। দুই গ্রুপের মধ্যে আশিকের গ্রুপ সিনিয়র এবং জিহাদের গ্রুপ জুনিয়র।
একাধিক সূত্র কালবেলাকে জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মজম বাজার থেকে মো. নুরনবী, জিহাদ ও আশিক চৌকিদার বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। এ সময় আশিকের হাতে একটি সিগারেট ছিল। আশিক প্রকাশ্যে সিগারেট টেনে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় রায়হান, জিহাদ ও ইয়ামিনসহ তারা বেশ কয়েকজন আশিককে উদ্দেশ করে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। একপর্যায়ে আশিক তাদেরকে উদ্দেশ করে বলে, 'সিগারেট কি আমি তোদের বাপের টাকায় খাই'। এ কথার জের ধরে রায়হানসহ তার বন্ধুরা আশিক, নুরনবী ও জিহাদকে মারধর করে। তাদের মারধর খেয়ে এই নালিশ নিয়ে আশিক, নুরনবী ও জিহাদ এলাকার বড় ভাই হিসেবে মো. লোকমান ও সজীবের কাছে যায়। তাদের দুজনকে আশিক বিষয়টি অবগত করে। আশিকের কথা শুনে লোকমান ও সজীব ক্ষুব্ধ হয়ে জিহাদ, রায়হান ও ইয়ামিনের কাছে যায়৷ একপর্যায়ে তাদের দু'গ্রুপের মধ্যে তুমুল ঝগড়াঝাঁটি ও মারধরের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সজীব ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় লোকমানকে উদ্ধার করে প্রথমে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক লোকমানকে বরিশাল শেরেবাংলা (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। পরে স্বজনরা তাকে শেবাচিমে নিয়ে যায়। নিহত সজীবের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষ করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।
বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন কালবেলাকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পুলিশ বেশ কয়েকজন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। পুলিশ ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত চলমান রেখেছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন