নারায়ণগঞ্জের বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মনোয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার আসামি এহসান উদ্দিন আহম্মেদ।
তাদের বিরুদ্ধে জন্ম ও নিবন্ধন ফি বাবদ আদায় করা ৩৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারের জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদসহ মামলার অপর আসামিরা হলেন বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব শামিম মিয়া ও মোহাম্মদ ইউসুফ। শামিম মিয়া বর্তমানে রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন ও মোহাম্মদ ইউসুফ বর্তমানে সাসপেন্ডেড রয়েছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অভিযুক্ত ৩ জন নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তারা অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ইউপির জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ফি বাবদ আদায়কৃত ৩৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়াও তারা জাল জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার ও সংরক্ষণ, অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে জন্ম নিবন্ধন আইডি তৈরি করেন যা দণ্ডবিধির ধারা অনুযায়ী দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ জানান, ‘চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হলে সচিবদের বিশ্বাস করতে হয়। সচিবদের জালিয়াতির কারণে আমি ফেঁসে গেছি। আমার ভুল হয়েছে তারা যেসব কাগজপত্র দেখিয়েছে, সেগুলো আমি সরাসরি যাচাই করিনি। অনলাইনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের পাসওয়ার্ড সচিবদের কাছে সংরক্ষিত থাকে। তারা আমার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে আমার স্বাক্ষর জাল করে কিংবা স্বাক্ষর ছাড়া জাল জন্ম নিবন্ধন বানিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মিথ্যা কথা বলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মানুষ না, আমি কারও হক নষ্ট করে অর্থ উপার্জন করার মতো মানুষ না, আমি জীবনে কাউকে এক টাকা ঠকিয়েছি এমন কোন প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না। ৩৩ লক্ষ টাকা আমার পারিবারিক ঐতিহ্য আর সম্মানের প্রেক্ষাপটে খুবই সামান্য, আমার কথা না হয় বাদই দিলাম।’
মন্তব্য করুন