ছাত্রলীগের একটি পক্ষ হামলা চালিয়ে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুরের পাশাপাশি তিন ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৮ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ছাত্রলীগের দুপক্ষের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি আওয়ামী লীগের নেতাদের।
আহতরা হলেন, ভেদরগঞ্জ উপজেলা সদরের সরকারি এম এ রেজা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ আবু জাফর আশিক (২৯), সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা সুমন মুন্সী (২৭) ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোরসালিন হাওলাদার (২১)। তাদের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত মাদবরের সাথে সরকারি এম এ রেজা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে বিরোধ রয়েছে। রোববার রাত ৯টার দিকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ আবু জাফর আশিক, সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা সুমন মুন্সি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোরসালিন হাওলাদার ভেদেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন।
রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রান্তর নেতৃত্বে ১৫ হতে ২০ জন ওই কার্যালয়ে হামলা চালান। তখন তারা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন এবং ওই তিন ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে রাতে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
সরকারি এম এ রেজা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ আবু জাফর আশিক কালবেলাকে বলেন, ‘রোববার নির্বাচনের ফলাফল জানার পর আমরা কয়েকজন আওয়ামী লীগের অফিসে বসেছিলাম। রাত ৯টার দিকে প্রান্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেন। আমাদের তিনজনকে পিটিয়ে আহত করেন ও নেত্রীর ছবি, আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। কী কারণে প্রান্ত এই হামলা করলেন আমরা জানি না। আমার ভাইয়ের মাধ্যমে একটি মামলার এজাহার থানায় পাঠিয়েছি। প্রান্তসহ যারা এ ঘটনায় জড়িত ছিল এমন ১৬ জনের নাম উল্লেখ করেছি এজাহারে।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন হিরু কালবেলাকে বলেন, ‘গতকাল নির্বাচনের রেজাল্ট শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আমাদের ছাত্রলীগের নেতাদের ওপর বহিরাগত বখাটে যারা রামদা, সেনদা হকি নিয়ে হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনার ব্যানার, আমাদের এমপি নাহিম রাজ্জাকের ব্যানারসহ অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছেন। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করছি।’
হামলার বিষয়টি জানার জন্য উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত মাদবরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান হাওলাদার কালবেলাকে বলেন, ‘এত বছর থেকে আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কেউ কোনোদিন হামলা চালানোর সাহস দেখায়নি। যারা এ দুঃসাহস দেখিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভেদরগঞ্জ থানার ওসি মিন্টু মণ্ডল কালবেলাকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের দুপক্ষের বিরোধে একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগ অফিসের কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। এমন একটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করছি।’
মন্তব্য করুন