নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে জাহাঙ্গীর সিকদার নামের একজনকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন উপস্থিত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। জাহাঙ্গীর নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আলমগীর সিকদারের ভাই।
রামচন্দ্রদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে রোববার (৭ জানুয়ারি) ভোট চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। রাতে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবির হোসেন।
জানা গেছে, সকালে আড়াইহাজারের রামচন্দ্রদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ (নৌকা) সমর্থক ও জাতীয় পার্টির (লাঙল) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তখন ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তদের আটক করে।
এই আসনের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আলমগীর সিকদারের অভিযোগ, নৌকা প্রতীকে জাল ভোট দিচ্ছিলেন প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুর সমর্থকরা। এর প্রতিবাদে দুপুরে ভোট বর্জন করেছেন তিনি। এই ঘটনায় আলমগীর সিকাদারের নির্বাচনী সমন্বয়ক ও তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর সিকদারসহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছিল। এর মধ্যে সকাল ১০ টার দিকে রামচন্দ্রদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গেলে দেখা যায় একটি কক্ষে নৌকা ও ঈগল প্রতীকের দুই এজেন্ট জাল ভোট দিচ্ছেন। এ নিয়ে তারা প্রতিবাদ করলে নৌকার লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় গ্রামবাসীও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ গুলি করে। এতে তার সমর্থকের গায়ে ছররা গুলি লাগে।
ভোটের দিন সকালে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। এরপর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন আলমগীর সিকদার। সংঘর্ষে আহত চারজনের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নজরুল ইসলামের নির্বাচন সমন্বয়ক সুন্দর আলী। তিনি বলেন, ‘পরাজয় নিশ্চিত জেনে লাঙ্গলের প্রার্থী মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলে আলমগীর সিকদার ও তার ভাই জাহাঙ্গীর সিকদারের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা কেন্দ্র ও ব্যালট বাক্স ভাঙচুর করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ছুড়ে। পরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন