নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনে টাকা দিয়ে ভোট কেনার সময় ধরা খেয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর তিন কর্মী। অভিযোগ তারা টাকা দিয়ে ট্রাক প্রতীকের জন্য ভোট কিনতে গিয়েছিল।
শনিবার (৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাকরাইল নিমতলী মোড় নামক স্থান থেকে স্থানীয় জনগণ তাদের আটক করে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্টদের জানালে সেখানে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা হাজির হন। এ সময় তাদের কাছে নগদ ১৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এরপর ওই দিন রাতেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদেরকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
মোবাইল কোর্টের বিচারক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোসা. আতিয়া খাতুন নির্বাচন উপলক্ষে ঘুষ গ্রহণের জন্য ১৮৬০ সালের ঘুষ গ্রহণ অপরাধে ১৫ দিনের জেল প্রদান করেন। এ সময় থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুব আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, উপজেলার বিলাশবাড়ি ইউনিয়নের মৃত মফিজ মন্ডলের ছেলে মো. ফুলবর (৫৩), ভগামানপুর গ্রামের মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে বদলগাছী কৃষি অফিসের নাইট গার্ড মো. স্বাধীন হোসেন (৪৩) এবং একই ইউনিয়নের দিপগঞ্জ হলুদ বিহার এলাকার মৃত মকবুলের ছেলে মো. মঞ্জু (৫৪)। তারা সকলেই স্বতন্ত্র প্রার্থী ছলিম উদ্দি তরফদারের সমর্থক বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল ভোট। তাই টাকার বিনিময়ে ভোট কেনা হতে পারে এমন আশংকা করছিল স্থানীয়রা। তারই ধারাবাহিকতায় এদিন সন্ধ্যায় আব্দুস সালাম চেয়ারম্যানের বাড়িতে টাকা লেনদেন হয়। কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে চাকরাইল নিমতলীর মোড় নামক স্থানে গিয়ে টাকা ভাগাভাগি করে। পরবর্তীতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুঠোফোনে কালবেলাকে বলেন, আমার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
বিচারক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোসা. আতিয়া খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করে মুঠোফোনে কালবেলাকে বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে ঘুষ গ্রহণের জন্য ওই তিনজনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার গোলাম মওলা রাত ১১টার দিকে সংবাদমাধ্যমে লিখিতভাবে জানান, রাত সাড়ে ৮টায় বদলগাছি উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ছলিম উদ্দীন তরফদার (ট্রাক মার্কা) এর তিনজন কর্মী ভোটারকে নগদ টাকা প্রদানের সময় স্থানীয় লোকজন আটক করে খবর দিলে এসিল্যান্ড গিয়ে টাকাসহ তাদেরকে পায়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দোষ স্বীকার করে। পরে মোবাইল কোর্ট করে তাদেরকে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙের দায়ে ১৫ দিন করে জেল দিয়েছেন। জব্দকৃত ১৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন