ফেনী শহর থেকে পরশুরামের বিলোনিয়া সীমান্ত পর্যন্ত চলত একটি লোকাল ট্রেন যা ফেনীর উত্তরাঞ্চলের মানুষদের কাছে বিলোনিয়া ট্রেন নামে পরিচিত ছিল। ফেনী থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত এ রেল রুটের দূরত্ব ছিল ২৮ কিলোমিটার।
১৯২৯ সালে নির্মিত ২৮ কিলোমিটারের এ রেলপথে বন্ধুয়ার দৌলতপুর, আনন্দপুর, মুন্সির হাটের পীরবক্স, নতুন মুন্সির হাট, ফুলগাজী, চিথলিয়া, পরশুরাম ও বিলোনিয়া নামে ৮টি স্টেশন স্থাপন করা হয়েছিল। এক সময়ে রেলপথটি ছিল এলাকার শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম। বিভিন্ন অজুহাতে ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট রেল কর্তৃপক্ষ ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথটি বন্ধ করে দেয়। কর্মচারীদের বদলি করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলের এক কর্মকর্তা বলেন, রেল কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় প্রতিনিয়ত বিলোনিয়া রেললাইন দখল হয়ে চলেছে। রেললাইনের উপরে নির্মাণ হয়েছে ঘরবাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রেললাইনটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে যারা আছে তারা টাকা পয়সা নিয়ে স্থানীয়দের নানানভাবে রেল লাইনটি ভোগ দখল করতে সহযোগিতা করছে। বিশেষ করে মুন্সিরহাট বাজার ফুলগাজী বাজার এলাকায় সবচেয়ে বেশি রেললাইনের জায়গা দখল হয়েছে।
এ সম্পর্কে আরও জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ে এস্টেট বিভাগ ৩১নং ফেনী কাচারী কানুনগো অফিস কর্মকর্তা সারবেয়ার মো. আমান উল্লাহর মোবাইল নম্বরে একাধিক বার কল দিয়েও ফোন রিসিভ হয়নি।।
উল্লেখ্য বিলোনিয়া ট্রেনের ফেনী স্টেশনের পরের স্টেশনের নাম বন্দুয়া। এটি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায়। এখন সেখানে স্টেশন বলতে ভাঙা, লতাপাতায় ঠাসা কয়েকটি ইটের দেয়াল কালের সাক্ষী হয়ে পড়ে আছে। এর পরের স্টেশন আনন্দপুর এ স্টেশনের অবস্থাও বিলিন হবার পথে। স্টেশনগুলোর একপাশে টিকেট ঘর, ওয়েটিং রুম, স্টেশন মাস্টারের ঘর সবই আছে। নেই শুধু মানুষের কোলাহল। দীর্ঘদিন অবহেলা আর অযত্নে থেকে সেগুলো আজ পরিত্যক্ত।
এরই মধ্যে দখল হয়েছে ফেনী বিলোনিয়া রেললাইনের সিংহভাগ অংশ। বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারি না থাকায় স্থানীয়রা যে যার মতো করে রেলের জায়গা দখল করে নির্মাণ করেছে বাড়িঘরসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফেনী বিলোনিয়া রুটে ট্রেনটি বন্ধ হওয়ায় দীর্ঘ ২৬ বছরেও দেখেনি আলোর মুখ। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয়রা এ ট্রেনটি চালু হওয়ার জন্য আশায় বুক বাঁধলেও কার্যত বিলোনিয়া রুটে ট্রেনটি চালু করতে আওয়ামী লীগ সরকারের তেমন কোনো আহামরি উদ্যোগ চোখে পড়েনি। স্থানীয় বাসিন্দারা এখনো আশাবাদী চালু হবে বিলোনিয়ার ট্রেন। আবারো ঝকঝক শব্দ করে হুইসেল বাজিয়ে ফেনী থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটি পৌঁছাবে বিলোনিয়া স্টেশনে। স্থানীয়দের এমন অপেক্ষার প্রহর কি শেষ হবে। না কি এই অপেক্ষাটাই তৈরি হবে দীর্ঘশ্বাসে।
মন্তব্য করুন