টেকনাফের মেয়ে উম্মে কুলসুম। ফেসবুকে তার পরিচয় হয় মুজিবনগরের এনামুলের সাথে। উন্নত জীবন লাভের মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে টেকনাফ থেকে চলে আসেন মেহেরপুরের মুজিবনগরে। কোনো পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধভাবে ভারত যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বিজিবি সদস্যদের হাতে আটক হয়েছেন কুলসুম ও পাচারকারী এনামুল হক।
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বিজিবির-৬ ডি কোম্পানি মুজিবনগর বিওপির নায়েক মো. দুলাল আটক কুলসুম ও এনামুলকে মুজিবনগর থানায় সোপর্দ করেন। পরে এনামুল ও তার সহযোগী মনিরুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ তাদের আদালতে সোপর্দ করেছে।
গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে বিজিবির হাতে রোহিঙ্গা নারী আটক। পরে অবশ্য জানা যায় কুলসুমের জন্ম নিবন্ধন রয়েছে। জন্ম নিবন্ধনের বিবরণ অনুযায়ী উম্মে কুলসুম (৩৩) কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার কেরুনতলী গ্রামের ছালামত উল্লাহর মেয়ে। পাচারকারী এনামুল হক (২৫) মুজিবনগরের মাঝপাড়া গ্রামের সোনাপুর বাজারের মৃত আয়ুব আলীর ছেলে এবং মনিরুল (৩০) একই গ্রামের মৃত মোজাম শেখের ছেলে।
এর আগে গত বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে বিজিবির একটি টহল দল মুজিবনগর সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করে।
বিজিবি ও মুজিবনগর থানা সূত্রে জানা গেছে, মুজিবনগর এর মাঝপাড়া গ্রামের সোনাপুর বাজারের মৃত আয়ুব আলীর ছেলে এনামুল হক ও মৃত মোজাম শেখের ছেলে মো. মনিরুল শেখ ভিকটিম উম্মে কুলসুমের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রলোভন দেখায়। তাকে অবৈধভাবে ভারতে পাচার করার উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে আটকে রাখে। বুধবার রাতে বিজিবির টহল দল সোনাপুর বাজারে জনৈক কামাল উদ্দিনের বাড়ির সামনে পৌঁছালে, সেখান থেকে একজন পুরুষ ও একজন মহিলা কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলে স্থানীয় সাক্ষীসহ আরও লোকজনের উপস্থিতিতে বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা নিজেদের পরিচয় ও ঠিকানা প্রকাশ করে।
জিজ্ঞাসাবদের সময় উম্মে কুলসুম জানান তিনি এনামুলের সাথে ভারতে যাবেন বলে এখানে এসেছেন। মোবাইল ফোনে তিনি এনামুলের সাথে যোগাযোগ করে টেকনাফ থেকে বাস যোগে মুজিবনগর এসেছেন। তাদেরকে আটকের সময় এনামুলের সহযোগী মনিরুল শেখ পালিয়ে যায়। এ সময় অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজিবি সদস্যরা আটকদের তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
মন্তব্য করুন