শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল করিমের (কামরুল) সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
শনিবার (১ জুলাই) দুপুরে এ উপলক্ষে রবিউলের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রামে শোক র্যালি শেষে রবিউলের কবরে ফুলের শ্রদ্ধা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
পরে পাশের গ্রাম বাসাই, রবিউলের হাতে প্রতিষ্ঠিত করা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ব্লুমস নামের বিদ্যালয়ের মাঠে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সভা শেষে বিষেশ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবারসহ কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি জি. আর শওকত আলীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুল আলীম খান, ব্লুমসের সদস্য সচিব শহিদ রবিউল করিমের ছোট ভাই শামসুজ্জামান শামস, সহসভাপতি ইকবাল হোসেন কচি, পরিচালক (অর্থ বিভাগ) মো. গোলাম সারোয়ার, আজীবন সদস্য মো. সানোয়ার হোসেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক রকিবুল হাসান খান, রবিউলের সহধর্মিণীর বড় ভাই চিকিৎসক কামাল উদ্দিন প্রমুখ।
এ সময় শহীদ এসি রবিউলের ছোট ভাই শামসুজ্জামান শামস বলেন, ২০১৬ সালের এই দিনে আমরা আমাদের ভাইকে হারিয়েছি। মানুষের জন্য দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য এ স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি একটি বৃদ্ধাশ্রম ও বিশেষায়িত শিশুদের জন্য আবাসিক ভবন করতে চেয়েছিলেন। জঙ্গিদের হাত থেকে মানুষদের বাঁচাতে গিয়ে তিনি শহীদ হয়েছেন। আমাদের তাকে ভালোবাসতে হবে। তার আত্মত্যাগ আমাদের জন্য গর্বের, গৌরবের। তার যেসব কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলোকে পূর্ণ করতে হবে। তার কাজগুলোকে ভালোবাসলেই তার প্রতি ভালোবাসা জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, স্কুলটি পরিচালনা করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হচ্ছে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।
রবিউল করিমের বন্ধু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, রবিউল করিম স্বপ্নবাজ মানুষ ছিলেন। তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের নিয়ে ভাবতেন। সেই ভাবনা থেকেই তিনি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। এমনকি তিনি মানুষের জন্য নিজের জীবনও বিলিয়ে দিয়েছেন। তার এই ভালোবাসাকে ধারণ করে আমাদের তার স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেজন্য তার প্রতিষ্ঠিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্কুলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এটির পাশে দাঁড়াতে হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুল আলীম খান রবিউলের সঙ্গে পরিচয়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকার সময় রবিউলের সঙ্গে পরিচয় হয়। সে এই স্কুলের স্বপ্ন দেখেছিল। এরপর সেটি প্রতিষ্ঠা করে। একটি ছোট ঘর থেকে ধীরে ধীরে এখানে ভবন গড়ে তোলা হয়েছে। তবে বর্তমানে বিদ্যালয় পরিচালনায় বেশকিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করতে কষ্ট হচ্ছে। তবুও শিক্ষকরা বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের এই বিদ্যালয়টি পরিচালনায় সর্বস্তরের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে স্কুলের পাশে দাঁড়িয়ে এটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাহলেই রবিউলের স্বপ্ন বেঁচে থাকবে।
মন্তব্য করুন