ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুনামগঞ্জ জেলার ছয়টি স্টেশনে সবগুলোতেই পানি বেড়েছে। জেলার একমাত্র ছাতক স্টেশনে সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে। এদিকে একটানা বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলোঘর, কাজিরপয়েন্ট, আরপিনগর, উকিলপাড়া, নতুনপাড়াসহ শহরের বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। শহরের কাজীরপয়েন্ট দিয়ে সুরমার পানি ঢুকছে শহরের নিচু এলাকায়। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৩২ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে শহরের পশ্চিম নতুন পাড়ায় অনেকের ঘরে পানি উঠেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে বন্যা না হলেও জলাবদ্ধতার জন্য সুনামগঞ্জ পৌরবাসীকে আরও ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হবে।
এদিকে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কের নিচু এলাকা নিমজ্জিত হয়েছে। এই সড়কের ডুবন্ত অংশে যানবাহনের বদলে নৌকা চলছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ছাতক পয়েন্টে পানি বেড়েছে ০.১৩ সেন্টিমিটার। বর্তমানে বিপৎসীমার ০.৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে অর্থাৎ ৮.৯৩ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে সুরমার পানি। সুনামগঞ্জ পয়েন্টে শূন্য দশমিক ০.২০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ০.০৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে অর্থাৎ ৭ দশমিক ৭২ সেন্টিমিটার উচ্চতায় সুরমা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। দিরাই উপজেলার পুরাতন সুরমা নদীর পানি ০.১৭ সেন্টিমিটার বেড়ে ৬ দশমিক ৩৭ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপৎসীমার ০.১৮ সেন্টিমিটার নিচে। জাদুকাটা নদীর পানি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে ০.০৭ সেন্টিমিটার বেড়ে ৬ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। এ ছাড়াও জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীর পানি ০ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার বেড়ে ৬ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় এবং তাহিরপুর উপজেলার পাটনাই নদীর পানি শূন্য দশমিক ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে ৬ দশমিক ৬৮ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৩৩২ মিমি, লাউড়েরগড় পয়েন্টে ১১১ মিলিমিটার, ছাতকে ৮১ মিলিমিটার এবং দিরাইয়ে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ছাড়াও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে ২২০.০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মামুন হাওলাদার জানান, সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আছে। গত তিন দিনে সেখানে ৫২৩ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সুনামগঞ্জেও অনেক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যার জন্য নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ এবং উজানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আমাদের নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে। সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে এখনো পানি প্রবেশ করলেও হাওরের ধারণ ক্ষমতা কমে আসছে। সেজন্য সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বিপৎসীমা ক্রস করতে পারে। বর্তমানে শুধু সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৮২ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে সুনামগঞ্জে ২০২২ সালের মতো বড় ধরনের কোনো বন্যার আশঙ্কা নেই। এটা মৌসুমের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত।
মন্তব্য করুন