দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে বাবা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও মাঠে রইলেন ছেলে। দলীয় সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করা সিরাজুল ইসলাম খান রাজু নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলেও নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন তার ছেলে আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক খান মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মেহেদী।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে সিরাজুল ইসলাম খান রাজুর প্রার্থিতা বৈধতা পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে খান মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মেহেদী মনোনয়নপত্র দাখিলের পর যাচাই-বাছাইয়ে ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। পরে নির্বাচন কমিশনে তিনি আপিল করলে প্রার্থিতা ফিরে পান। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম খান রাজু।
২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ২০১৮ সালে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম তালুকদার। এবারে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন সিরাজুল ইসলাম খান রাজু।
বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে প্রত্যাহার ও আপিল শেষে বৈধ ১১ জন দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- জাপার সঙ্গে আওয়ামী লীগের ছেড়ে দেওয়া এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টি মনোনীত নুরুল ইসলাম তালুকদার, আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী অজয় কুমার সরকার, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী খান মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মেহেদী, প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আফরিনা পারভীন, তৃণমূল বিএনপির আব্দুল মোত্তালেব, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের আব্দুল মালেক সরকার, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির তাজ উদ্দিন মন্ডল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের রফিকুল ইসলাম সরদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সদস্য আফজাল হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম।
স্বতন্ত্র প্রার্থী খান মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মেহেদী মুঠোফোনে জানান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে কোনো বাধ্যবাধকতা না দেওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আমার পিতা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এক্ষেত্রে আমার বাবা দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্বাচনের মাঠে কাজ করবেন। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপামর জনসাধারণকে নিয়ে নির্বাচন করব এবং নির্বাচনে বিজয়ী হব ইনশাল্লাহ।
দুপচাঁচিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলীয় মনোনীত প্রার্থী প্রত্যাহার করে জাতীয় পার্টিকে আসটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগের দলীয় ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
মন্তব্য করুন