আলু আর ধান টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার কৃষকদের প্রাণ। এবার সত্যিই প্রাণ ফিরে পেয়েছে ধনবাড়ী উপজেলার আলু চাষিরা। আগাম চাষের আলু তোলায় ব্যস্ত এখন কৃষক-কৃষাণীরা। অনুকূল আবওহায়া আর সময়মতো সার ও বীজ পাওয়ার কারণে এবার বাম্পার ফলনও হয়েছে। বাজারে আলুর দামও বেশি। গত বছরের তুলনায় এবার আলুর ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকের চোখে-মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে।
আলু চাষিরা জানান, এখন যারা আলু তুলছেন তা বিক্রি করে লাভের মুখই দেখছেন। চাষাবাদ, সার, বীজ, সেচ ও শ্রমসহ সব খরচ বাদ দিয়ে ভালোই লাভ টিকছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর বাজার প্রতি মণে ১০০ থেকে দেড়শ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে বৃদ্ধি পেলে আগামী সপ্তাহে যারা আলু তুলবেন তারা ফলনের সাথে মোটা অংকের লাভের মুখও দেখবেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি, বলিভদ্র, যদুনাথ পুর, বীরতারা, বানিয়াজান, ধোপাখালি ইউনিয়নগুলোর বিভিন্ন এলাকায় চাষিরা মহিলা শ্রমিক নিয়ে আগাম জাতের আলু তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এসব মাঠে রোমানা, পাকরি ও এলগার জাতের আলু তুলতে শুরু করেছেন।
ধনবাড়ী উপজেলার ধনবাড়ী বাজারে আলু বিক্রি করতে আসা চাষিরা জানান, বাজারে প্রতি মণ পারকি আলু ৭২০ থেকে ৭৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর রোমানা আলু ৬৫০ থেকে ৬৭০ টাকা মণ। আলুর দাম দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা খুশি। এভাবে চলতে থাকলে চাষিরা এবার লাভের মুখ দেখবেন।
পাঁচ একর জমিতে আগাম জাতের এলগার আলু চাষ করেছেন ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়নের মুশুদ্দি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের আলুচাষি সুজন। তিনি বলেন, রোপণের ৬০ দিন বয়সে আমি আলু তুলেছি। জমিতে ফলন হয়েছে ৬০ মণ। ফসলের উৎপাদন খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। ৫২০ টাকা মণ দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। তাতে লাভ হব আশানুরূপ। মাঠে আরও আলু আছে। দশ-পনেরো দিন পরে সেগুলোও তুলতে হবে। এবার আলুর দাম যদি এ রকম থাকে তাহলে মোটামুটি লাভের মুখ দেখা যাবে। পাশাপাশি গত কয়েক বছরের লোকশান কিছুটা হলেও পুষিয়ে ওঠবে।
মুশুদ্দি কামার পাড়া গ্রামের কৃষক মো. জমিরউদ্দীন বলেন, আলু রোপণ থেকে শুরু করে নিড়ানি, বাঁধানো, বহনসহ যাবতীয় কাজ করেছি আমিসহ পরিবারের লোকজন। বাইরের শ্রমিককে নিতে হয়নি। তাই অন্যের থেকে বিঘাপ্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ কম হয়েছে। ১ বিঘা জমির আলু তুলেছি। ফলন হয়েছে ৬০ মণ। ৬৬০ টাকা মণ দরে বিক্রি করে প্রায় ৯-১০ হাজার টাকা লাভ হবে আশা করি। আলু বিক্রি করে এবার ভালোই লাগছে।
ধনবাড়ী কাঁচামাল হাটের পাইকার শিহাব বলেন, বাজারে এখন আগাম জাতের আলু উঠতে শুরু করেছে। এসব আলু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় বড় শহরের মোকামে সরবরাহ করা হচ্ছে। কাঁচামালের মূল্য সঠিকভাবে বলা যায় না। আমদানির ওপর দাম ওঠা-নামার বিষয় নির্ভর করবে। তবে গত সপ্তাহ থেকে মোকামগুলোতে আলুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম প্রতি মণে এক থেকে দেড়শ টাকা বেড়েছে।
ধনবাড়ী উপজেলার কৃষি অফিসার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, বাজারে রোমানা পাকরি ও দেশি পাকরি (লাল) আলু ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এই আলু এক সপ্তাহ পূর্বে ১০৫০ থেকে ১০৮০ টাকা মণ ছিল। আর মিউজিকা আলু বিক্রি হচ্ছে ৭২০ থেকে ৭৩০ টাকা মণ। এই আলু গত সপ্তাহে ছিল ৬৫০ থেকে ৬৭০ টাকা মণ। সব খরচ বাদ দিয়ে এবার চাষিরা লাভের মুখ দেখছেন। এবার আলুর দাম কম হওয়ায় কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ বাইরের অনেক দেশই বাংলাদেশের আলু নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করছেন। সবকিছু মিলে দেশে-বিদেশে এবার আলুর চাহিদা রয়েছে।
ধনবাড়ী উপজেলার কৃষি উপসহকারী ফরিদ আহমেদ বলেন, আগাম আলু চাষিদের কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমি সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রেখেছি, ভালো ফলনের জন্য পরামর্শ দেওয়ায় কৃষক সফলতা পেয়েছে।
মন্তব্য করুন