যশোরে বিএনপির নেতা ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলামের ঘোপ এলাকার বাড়িতে বোমা হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৮ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, দুটি বাসভবনে অন্তত ১৫টি হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। বোমার বিকট শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এলাকা। পরিবারের সদস্যসহ এলাকার মানুষের মধ্যে আতংক সৃষ্টি হয়। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত তরিকুল ইসলাম ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বড় ভাই শান্তনু ইসলাম সুমিত জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে যশোর শহরের ঘোপ পিলু খান সড়কস্থ বাস ভবনে একের পর এক বোমা হামলা শুরু হয়। হামলাকারীরা পাশে তাদের চাচার বাড়িতেও বোমা নিক্ষেপ করে। বাড়ির প্রধান ফটকে ও ভিতরে বোমাগুলো বিস্ফোরিত হয়। বোমার স্প্রিন্টার বিদ্যুতের তারে লেগে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একাধিক বোমার বিস্ফোরণে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের এ হামলায় প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা মহল্লা। গভীর রাতে এ বোমা হামলায় আতংকিত হয়ে পড়েন দুই পরিবারের সদস্যরা।
তবে এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পূজার কারণে দু একটি এলাকায় বাজি-পটকা ফুটেছে। এর মধ্যে ঘোপ এলাকায় দু একটি ককটেল ফুটতে পারে-এমন তথ্য পেয়েছেন। বোমাবাজির অভিযোগ সঠিক নয়।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট তরিকুল ইসলামের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া ২০১৫ সালে ৫ মার্চ তরিকুল ইসলামসহ পাঁচজন নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, গত এক দশকে প্রয়াত তরিকুল ইসলামসহ যশোরের শীর্ষনেতাকর্মীদের বাড়িতে ৭ বার বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ভাঙচুর করা হয়েছে ১১ বার। এসব ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বারবার দোষারোপ করলেও এমন অভিযোগকে তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের সাজানো দাবি করে আসছেন।
মন্তব্য করুন