চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের সকল কারাগারে বন্দির চাপ ক্রমশ বাড়ছে। কোনো কোনো কারাগারে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণের চেয়েও বেশি বন্দি রয়েছেন। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার হচ্ছেন অসংখ্য নেতাকর্মী। আর এতে হিমশিম খাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। ব্যতিক্রম নয় মেহেরপুর জেলা কারাগারও।
সোমবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে সরজমিনে মেহেরপুর জেলা কারাগারে দেখা যায়, জেল কোড অনুযায়ী একজন বন্দির জন্য ৩৬ ফুট জায়গা প্রয়োজন। এই হিসাবে মেহেরপুর জেলা কারাগারে ৩৩০ জন কারাবন্দি রাখার জায়গা রয়েছে। ১৩ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত এই কারাগারে বন্দি ছিলেন ৩২৯।
মেহেরপুর জেলা কারাগারের সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, এই কারাগারে বন্দি ধারণ ক্ষমতা কাগজে কলমে ২০০ জনের। কিন্তু কিছু ভৌত অবকাঠামো নতুন কারাগারটি চালু হওয়ার পর নির্মিত হওয়ায় কারা অধিদফতরের নিয়মানুযায়ী সার্ভে করে বন্দি ধারণ ক্ষমতা ৩৩০ ঘোষণা করার সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। ২০১৫ সালে কারাগারটির কারারক্ষীর সংখা ৩৫ জন থেকে ৫১ জনে উন্নীত করা হয়। তারপরও বর্তমানে জনবল সংকটে রয়েছে কারাগারটি। কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলে মোট ৮০ পদের বিপরীতে জনবল রয়েছে মোট ৬৫ জনের। ডেপুটি জেলারের ২টি পদের বিপরিতে কর্মরত রয়েছেন একজন। সিভিল সার্জনের নির্দেশে কারাগারে একজন চিকিৎসক স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত আছেন, তবে নাই কোনো ডিপ্লোমা নার্স। ফার্মাসিস্টের একটি পদ থাকলেও সেটি খালি।
জেল সুপার মনির আহমেদ চিকিৎসাজনিত কারণে ছুটিতে দেশের বাইরে থাকায় মেহেরপুর জেলা কারাগারের জেলার মো. আমান উল্লাহ কালবেলাকে বলেন, ‘লোকবল সংকটজনিত কিছুটা সমস্যা থাকলেও বর্তমান জনবল নিয়েই কারাগারের সকল কর্মকাণ্ড সুচারুরূপে চালিয়ে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বন্দিদের খাবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া আছে। শীত নিবারণের জন্যও রয়েছে পর্যাপ্ত কম্বলও। কিছু আপডেটেড সিকিউরিট ইকুইপমেন্টসহ শুন্য পদে জনবল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও সুচারুভাবে জেলা কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা প্রয়োজন, এখানে কিছুটা ঘাটতি আছে।‘
মন্তব্য করুন