গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুরের সারদাগঞ্জ এলাকায় মাদকাসক্ত ছেলের পিটুনিতে বৃদ্ধ বাবার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৯ জুন) রাতে তিনি মারা যান বলে নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর থানার ওসি সৈয়দ রাফিউল করিম।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত মো. ওসমান গনি (৭০) কাশিমপুর থানাধীন সারদাগঞ্জ হাবিব মার্কেট এলাকার বাসিন্দা।
এলাকাবাসী, নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওসমান গনির ছোট ছেলে শরিফুল ইসলাম মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বিভিন্ন সময় তার বড় ভাই শফিকুল ও বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করতেন। এমনকি টাকা না পেয়ে তিনি ঘরের ফ্রিজ, আইপিএস, টিভিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পরিবারের সদস্যদের অজান্তে বিক্রি করে দেন।
১৮ জুন মাদক সেবনের জন্য শরীফুল তার বাবার কাছে কিছু টাকা দাবি করেন। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান ওসমান গনি। পরে ওইদিন রাত পৌনে ১১টার দিকে সারদাগঞ্জ রাইসমিলের পাশে হাবিব মার্কেটের সামনে বসে শরিফুল ইসলাম বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ওসমান গনি তার কাছে ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেন বিক্রি করে দিয়েছেন তা জানতে চান। এ নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ সময় মাদকাসক্ত ছেলে শরিফুল ও অপর ছেলে মাহবুব আলম লাঠি নিয়ে বাবাকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসা দিয়ে সোমবার রাতে বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনরা। বাড়িতে আনার পর রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার (২০ জুন) সকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে কাশিমপুর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, লাঠির আঘাতে ওসমান গনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়। এতে তার চোখে রক্ত জমাট বেঁধেছিল এবং চোখের পাশের হাড় ভেঙে গিয়েছিল।
ওসি সৈয়দ রাফিউল করিম বলেন, নিহতের আরেক ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে তার অপর দুই ভাইকে আসামি করে কাশিমপুর থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত দুই ছেলেকে মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন