কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পল্লীকবি রাধাপদ রায়ের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত আশি বছরের কবিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্ভাব্য দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকায় আনা ও তার চিকিৎসার সকল ব্যয়ভার বহনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (২ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে বিভিন্ন পেশার ২১ জন নাগরিক এই দাবি জানান। একই সঙ্গে রাধাপদ রায়ের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিও জানিয়েছেন বিবৃতিদাতারা। তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনার তিন দিনেও রাধাপদ রায়ের ওপর প্রকাশ্যে পৈশাচিক হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা অথবা গ্রেপ্তার করতে না পারা স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার দায়ভার সংশ্লিষ্ট থানার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এড়াতে পারে না।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে নাগেশ্বরী উউপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নে কবির নিজগ্রামে তার ওপর এই জঘন্য হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় চিহ্নিত হামলাকারী দুই ভাই রফিকুল ইসলাম ও কদুর আলীর নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও গ্রেপ্তার না করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় মানুষের কাছে স্বভাবকবি নামে পরিচিত পল্লীকবি রাধাপদ রায় একজন বাউল সাধক ও শিল্পী। একই সঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক তিনি। তার মতো এক অশীতিপর বৃদ্ধের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও স্বাধীন মত প্রকাশে বাধা দেওয়ার সামিল। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে স্থানীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে; যা মোটেও প্রত্যাশিত নয়।
বিবৃতিদাতারা হলেন- কনজ্যুমার এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন, বিশিষ্ট শিশুসংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুর রহমান সেলিম, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিতরঞ্জন দে, গ্রিন ক্লাব অব বাংলাদেশের (জিসিবি) কার্যকরী সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শহীদ মিয়া, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, নৌ-সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, জ্যেষ্ঠ নৌপ্রকৌশলী মো. আবদুল হামিদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি মানিকলাল ঘোষ, প্রভারটি ইমুলিনেশন এ্যাসিস্ট্যান্স সেন্টার ফর এভরিহোয়্যারের (পিস) নির্বাহী পরিচালক ইফমা হুসেইন, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের সদস্যসচিব আমিনুর রসুল বাবুল, আলোকিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাপ্পিদেব বর্মণ, দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম, মিডিয়া ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডেভেলপমেন্টের (মেড) নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম সবুজ, সাংবাদিক ও শিশুসংগঠক রাজন ভট্টাচার্য, সচেতন সংস্থার আহ্বায়ক সাকিলা পারভিন, জনলোকের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী রফিকুল ইসলাম সুজন, ঢাকা উত্তর নাগরিক ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তফা কামাল আকন্দ, পুরনো ঢাকা নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন ও মুক্তি শিখার আহ্বায়ক জিহাদ আরিফ।
মন্তব্য করুন