ভোলার দৌলতখানে ঘুমন্ত অবস্থায় পারভীন (৩৫) নামে এক গৃহবধূর ওপর এসিড নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় তার তিন বছরের ছেলে ফাহাদেরও পিঠ ঝলসে যায়।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দৌলতখান থানার ওসি সত্য রঞ্জন খাসকেল ও পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত এরশাদুল হক ভূঁইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এর আগে বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটা দিকে উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের দিদার উল্যাহ ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠান বাড়িতে তার বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে।
তিনি ওই গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি ও তার সন্তান ভোলা সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গৃহবধূ পারভীন জানায়, প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার রাতের খাবার খেয়ে তিনি তার ৩ সন্তানসহ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। এসময় তার শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদ ফরিদা অন্য কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাতে হঠাৎ জেগে দেখেন তার শরীরে জ্বালাপোড়া করছে। তখন তার ডাক-চিৎকারে শ্বশুর ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তার অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। তবে কে বা কারা এসিড নিক্ষেপ করেছে তা তিনি জানেন না।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুর আবদুল খালেকের জমিজমাসংক্রান্ত সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। গতকাল বুধবার মোবাইলের চার্জার নিয়ে ননদ ফরিদা ও শ্বশুর আবদুল খালেকের সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে সকাল ও বিকেলে বাকবিতণ্ডা হয়। এসময় তারা তাকে বসতঘরে কীভাবে বসবাস করবে বলে দেখিয়ে দিবেন বলে হুমকি দেন। এসব ঘটনার নেপথ্যে তার শ্বশুরের বড় জামাতা শাহাজান সাজু দাই করেন।
তবে তার শ্বশুর আবদুল খালেক জানায়, রাতে পুত্রবধূ ও নাতি ফাহাদ জ্বালাপোড়া করছে বলে ডাক-চিৎকার দেন। এসময় তিনি এগিয়ে এসে তাদের ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান। অন্যদিকে শাহাজান সাজুর বিরুদ্ধে ভিকটিমের আনীত এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয়রা জানায়, পুত্রবধূ ও শ্বশুরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে।
দৌলতখান থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত এরশাদুল হক ভূঁইয়া জানায়, এসিড নিক্ষেপের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আসছি। ভিকটিম ও তার ছোট ছেলে হাসপাতালে আছে। এসিডের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে তদন্তে পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত চলমান রয়েছে। ভিকটিম অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন