কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলায় সরকারি পুকুর নিলামকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পুলিশসহ তিনজন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা চত্বরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
আহতরা হলেন এএসআই ওমর ফারুক ও কনস্টেবল রবিউল ইসলাম এবং ছাত্রলীগ কর্মী আল মামুন। ছাত্রলীগের চর রাজিবপুর উপজেলা সভাপতি খায়রুল ইসলাম দুই গ্রুপের মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
আটকৃতরা হলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেকের অনুসারী মাহবুবুর রহমান ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্যসচিব মাঈদুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার উপজেলা পরিষদের অধীনে হ্যালিপ্যাড ও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামসংলগ্ন পুকুর দুটি প্রকাশ্যে নিলাম দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেক গ্রুপ সমন্বয় করার পাঁয়তারা করেন। এতে উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি জুয়েল রানা গ্রুপ রাজি না হওয়ায় তাদের মাঝে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকবর হোসেন হিরো ও ওসি (তদন্ত) আতাউর রহমান পরিস্থিতি শান্ত করেন।
পরে উপজেলা চেয়ারম্যানের অফিসকক্ষে ঢুকে তারেক গ্রুপ রাগান্বিতভাবে বলেন, তারা ছাড়া অন্য কেউ এই নিলামে অংশ নিতে পারবে না। এ ঘটনায় উত্তেজনা বেড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই সরকারের ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম মিশু ঘটনাস্থলে এসে তারেক গ্রুপকে জুয়েল গ্রুপের ওপর হামলার নির্দেশ দেয়। তখন দুগ্রুপের মধ্যে মারামারি শুরু হয়।
এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হয়ে প্লাস্টিকের টুল দিয়ে আঘাত করে তারেক গ্রুপ। এতে এএসআই ওমর ফারুক ও কনস্টেবল রবিউল ইসলাম এবং জুয়েল গ্রুপের কর্মী আল মামুন আহত হন। পরে আহত দুই পুলিশ সদস্য চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
চর রাজিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম মিশু বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি উপজেলা চত্বরে ফুসকার দোকানে ছিলাম। কিন্তু আমি হুকুম দেইনি।’
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ছাত্রলীগের চর রাজিবপুর উপজেলা সভাপতি খায়রুল ইসলাম বলেন, পুকুর নিলামকে কেন্দ্র করে না, অন্য একটি ঘটনায় টাকা ভাগাভাগি করাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে তারেক গ্রুপ তাদেরও মেরেছে।
চর রাজিবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকবর হোসেন হিরো বলেন, পুকুর নিলামকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মাঝে কিলঘুসির ঘটনা ঘটে। পরে উভয়পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওইখানে পুলিশও ছিল।
চর রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জানান, নিলামকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের হট্টগোল হলে সেই নিলাম স্থগিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারি কাজে যারা ব্যাঘাত ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চর রাজিবপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম বলেন, পুকুর নিলামকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে তাদের সঙ্গে কিছুটা ধাক্কাধাক্কি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে দুজনকে আটক করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন