ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো ধরনের ছুটি বা অনুমোদন না নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণে বান্দারবান গেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকসহ সরকারি সাত চিকিৎসক।
এদিকে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, ছুটিতে থাকা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ফিরে এলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার অন্যতম প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল। এই হাসপাতালটি জেলাবাসীর উন্নত চিকিৎসাসেবা নেওয়ার একমাত্র ভরসাস্থল। এই হাসপাতালে জরুরি বিভাগসহ অন্তত ১৪টি বিভাগ রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে ৩ হাজার রোগী হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টম্বর) সপ্তাহের শেষ দিন তীব্র রোগীর চাপ থাকলেও হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকসহ সাতজন চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা।
অনুপস্থিত থাকা চিকিৎসকরা হলেন- হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফায়েজুর রহমান, গাইনি চিকিৎসক ডা. শরিফ মাসুমা ইসমত, ডা. মারিয়া পারভীন, ডা. আইরিন হক, ডা. কামরুল নাহার বেগম, ডা. ফাহমিদা ও ডা. খোকন।
শহরের মৌড়াইল এলাকা থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুস সাত্তার নামে এক রোগী বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ডাক্তাররা কোনো ধরনের ছুটি না নিয়েই ভ্রমণে যাবেন, এটা ঠিক নয়। কারণ এখানে অনেক রোগী এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও চিকিৎসা নিতে পারছেন না। তারা হাসপাতালের রোগীর সেবা না দিয়ে ঘুরতে যাবে এটা কখনোই কাম্য নয়।
দীপক নামের আরেক রোগী বলেন, এই হাসপাতালে রোগীর চাপ থাকলেও ডাক্তাররা এমনিতেই রোগী কম দেখে। তার ওপর এখন বেশ কয়েকজন ডাক্তার ছুটি না নিয়ে ঘুরতে চলে গেছেন।
এদিকে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রানা নূরুস শামস জানান, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ডেঙ্গু মৌসুমে কেউ ছুটি কাটাতে পারবেন না। তবে তারা বান্দারবান ছুটিতে গেলে নিজ দায়িত্বে গেছেন। তাদের কেউ ছুটি নিয়ে যায়নি। তত্ত্বাবধায়ক আসার পর তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান এই চিকিৎসক কর্মকর্তা। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা অপর আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. সুমন ভূইঞা জানান, গাইনি বিভাগসহ সাতজন চিকিৎসক অনুপস্থিত রয়েছেন। এতে চিকিৎসাব্যবস্থা কিছুটা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ভিন্নভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দারি করেন।
এদিকে ভ্রমণে থাকা আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফাজুর রহমান ফয়েজ জানান, তিনি ছুটি নিয়ে পরিবাবের সঙ্গে অবকাশযাপনে আছেন। অন্য চিকিৎসকরাও ছুটির আবেদন জমা দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন