বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপক মো. শরিফুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। কালবেলায় ‘কাজেই আসছে না ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বরফকল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করার পর তাকে বদলি করে মীর রাশেদুল ইসলামকে ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
৪ সেপ্টেম্বর ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করেন মীর রাশেদুল ইসলাম। এর আগে ৩০ আগস্ট কালবেলায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
জানা গেছে, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার পৌর শহরের কংশ নদের পাড়ে হাওরাঞ্চলের মানুষের সেবাপ্রদানের লক্ষ্যে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে নির্মাণ করা হয় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। ২০ টন মাছ মজুদ এবং প্রতিদিন ২০ টন বরফ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও ২২ মার্চ হতে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে সংরক্ষণের জন্য রাখা হয় না কোনো মাছ, উৎপাদন হয় না বরফ। গত দুই বছরে প্রায় ২৭ লাখ টাকার বরফ বিক্রি হলেও তা এ বছর নেমে এসেছে শূন্যে। প্রতি মাসেই বরফকলটি পরিচালনায় এবং স্টাফদের বেতন বাবদ ব্যয় হয় প্রায় তিন লাখ টাকা, যা ব্যয়ের হিসাবে ছয় মাসে হয় ১৮ লাখ টাকা। কিন্তু গত ছয় মাসে আয় হয়নি এক টাকাও।
ভাটি বাংলার রাজধানী হিসেবে খ্যাত মোহনগঞ্জ সারাদেশে মাছের জন্য বিখ্যাত। জমজমাট ছিল মাছের বাজার। সেই মৎস্য ব্যবসা বরফ সংকটে হুমকির মুখে।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানায়, বরফ উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্টাফরা দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের গাফিলতি এবং তদারকির অভাবে মৎস্যজীবীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। মাছ নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপক মীর রাশেদুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে। ঢাকা থেকে এমডি এবং ইঞ্জিনিয়াররা এসেছেন। ঘন ঘন লোডশেডিং, বিদ্যুতের প্রয়োজনীয় লোড না পাওয়া এবং দীর্ঘদিন বরফ কল বন্ধ থাকায় অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে তাই একটু বিলম্ব হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুতই বরফ উৎপাদন সচ্ছল করার জন্য।
তিনি আরও বলেন, এই ভরা মৌসুমে ট্রান্সফরমারের সমস্যা সমাধান করে এবং যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে আবারও বরফ উৎপাদন সচ্ছল হলে একদিকে যেমন সরকারের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আয় বাড়বে তেমনি সীমাহীন ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে মৎস্য ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া উপকৃত হবে হাওর পাড়ের হাজার হাজার মৎস্যজীবী।
মন্তব্য করুন