চাঁদপুরের কচুয়ার আশরাফপুরের ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবসায়ী গণেশ দেবনাথকে চাঁদা না পেয়ে পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা।
সোমবার (২৮ আগস্ট) সকালে উত্তর চক্র এলাকায় পথ অবরুদ্ধ করে এ হামলা চালানো হয়।
আহত গণেশ দেবনাথ বলেন, ‘আমি সুনামের সঙ্গে এলাকায় ক্যাবল নেটওয়ার্কের ব্যবসা করছি। আর এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষরা আমার কাছে চাঁদা দাবি করেন। তা দিতে অপারগতা জানানোয় কয়েকবার আমার লাইনের তার ওরা কেটে দেয়। বিষয়টি আমাদের ব্যবসায়ী সমাজকে অবগত করি। আর এতে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য মোটরসাইকেল চালিয়ে জগতপুর থেকে আশরাফপুর যাওয়ার পথে আমার পথ অবরুদ্ধ করে কতিপয় দুর্বৃত্ত। পরে আমাকে পিটিয়ে আহত করে আমার মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষয়ক্ষতি করে দুর্বৃত্তরা। এদের বিষয়ে আইনানুগভাবে বিচার পেতে মামলা দায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
এ বিষয়ে আশরাফ পুরের ক্যাবল নেটওয়ার্কের মালিক ফরিদ হোসেন ও ইমাম হাসান বলেন, দুর্বৃত্ত আর কেউ না। যতটুকু জেনেছি হামলাকারীরা হচ্ছে আমাদের ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে তমাল বাহিনীর বিল্লাল হোসেনের ছেলে নাঈম (২৫) এবং এমরান হোসেনের ছেলে আলম(২৪)। এরা স্থানীয় চেয়ারম্যানের ইন্ধনেই এ ধরনের চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। আমরা অসহায় গণেশ দেবনাথকে এমন মর্মান্তিকভাবে পিটিয়ে আহত এবং তার মোটরসাইকেল ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই চাঁদাবাজ হামলাকারীদের বিচারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে নাঈম ও আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাদের ইন্ধনের বিষয়ে আশরাফপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রেজাউল মাওলা হেলাল বলেন, আমি এলাকায় নেই। জরুরি কাজে এলাকার বাইরে অবস্থান করছি। আমার ছেলের পক্ষ হয়ে ইন্ধন দিয়ে মারপিটের ঘটনা ঘটানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বরং এ ঘটনা আমি বিভিন্ন জনের থেকে শুনে এর সুষ্ঠু সমাধানের উদ্যোগ নেব ভাবছি।
এদিকে আহত গণেশ দেবনাথ প্রসঙ্গে চাঁদপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, রোগীকে কচুয়া থেকে এখানে রেফার করা হয়েছে। তার অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য আমরা ভর্তি নিয়ে নিয়েছি।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের কচুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিলকে জানালে তিনি বলেন, এখনো এ বিষয়ে থানায় এসে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
মন্তব্য করুন