ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে নিহত ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ডৌহাখলা ইউনিয়নের মরিচালী গ্রামের ইয়াসিন মিয়া শেখের পরিবারকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে নতুন ঘর করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার।
শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বিএনপি নেতা মোতাহার হোসেন তালুকদার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গৌরীপুরের ডৌহাখলা ইউনিয়নের মরিচালী গ্রামে ইয়াসিনের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে পরিবারকে ঘর নির্মাণের খবর দেন।
এ সময় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান তুলে দেন ইয়াসিনের মা ফিরোজা বেগমের হাতে।
মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ইয়াসিন মিয়া শেখ আমাদের ছাত্রদলের কর্মী ছিল। তাই আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে এই পরিবারের পাশে থাকা। আমরা আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ইয়াসিনের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দিয়েছি এবং তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই পরিবারকে একটি ঘর উপহার দেব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ, হাফেজ মো. আজিজুল হক, অ্যাডভোকেট নুরুল হক, হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ, সুজিত কুমার দাস, আব্দুল আজিজ মণ্ডল, এসএম দুলাল, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি তানজীন চৌধুরী লিলি, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহ নাসির উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আকবর আনিছ, ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার মণ্ডল, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি হুমায়ূন কবির, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান পলাশ, অ্যাডভোকেট আবু জাফর রাশেদ মিলন, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান সোহেল প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ইয়াসিন মিয়া শেখ গৌরীপুরে ডৌহাখলা ইউনিয়নের মরিচালী গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তার শেখের ছেলে। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ইয়াসিন রাশিয়ার একটি কোম্পানিতে চাকরির জন্য দেশত্যাগ করেন। সেখানে কয়েক মাস চাকরির পর গত বছরের ২২ ডিসেম্বর চুক্তিভিত্তিক যোদ্ধা হিসেবে রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন ইয়াসিন। রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও ইয়াসিন নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করতেন। কিন্তু ঈদের পরদিন এপ্রিলের ১ তারিখ তার মৃত্যুর খবর পায় পরিবার। যুদ্ধ চলাকালে মিসাইল হামলায় তিনি প্রাণ হারান বলে জানিয়েছেন রাশিয়ায় থাকা পরিচিতজনরা।
ইয়াসিন মিয়া শেখের বড় ভাই রুহুল আমিন শেখ বলেন, ধারদেনা ও জমি বিক্রি করে ১৫-১৬ লাখ টাকা খরচ করে ইয়াসিনকে রাশিয়া পাঠাই। যাওয়ার পর দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল ভাই। এর মধ্যেই তার মৃত্যুর সংবাদ পেলাম। একদিকে ভাই হারানোর শোক, অন্যদিকে ঋণের চাপ। কোথায় যাব, কী করব ভেবে উঠতে পারছি না। ভাইয়ের মরদেহ পেতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।
মন্তব্য করুন