কুমিল্লার চান্দিনায় রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে গ্রামের মাতাব্বরদের রোষানলে অবরুদ্ধ করা হয় দুই পরিবারকে। দুই পরিবারের সদস্যরা যাতে বাড়ি থেকে বের হতে না পারে সেজন্য বাড়ির চারপাশে বাঁশ ও কাঁটার বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করা হয়। শনিবার (৫ এপ্রিল) স্থানীয় সংবাদকর্মীদের তৎপরতা এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় ১৮ দিন পর তাদের মুক্ত করা হয়।
চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বামুটিয়া গ্রামের ভূইয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গত ১৮ মার্চ থেকে ওই বাড়ির আবুল কাশেম ভূইয়া ও আবুল হাসেম ভূইয়ার পরিবারকে অবরুদ্ধ করে গ্রামের কয়েকজন মাতাব্বর। এতে নারী, পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
জানা গেছে, সরকারি টিআর প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থে বামুটিয়া ভূইয়াপাড়া জামে মসজিদ থেকে দক্ষিণে ফসলি মাঠ পর্যন্ত খালের পাড় ঘেঁষে কাঁচা রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ওই রাস্তাটি নির্মাণের প্রায় ৯০ ভাগ কাজও শেষ হয়। কাশেম ভূইয়া ও হাসেম ভূইয়ার ঘর ঘেঁষে রাস্তাটি নির্মাণ করতে তাদের বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত সাতটি গাছও কেটে ফেলে গ্রামের মাতাব্বররা।
তাদের জায়গা থেকে কম জায়গা দিয়ে এবং সরকারি খাস জায়গা থেকে বেশি জায়গা নিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে বলায় একমত হননি মাতাব্বরা। চাহিদা অনুযায়ী আবুল কাশেম তার জায়গা দিয়ে রাস্তা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ১৮ মার্চ আবুল কাশেম ভূইয়ার বাড়ির দুপাশে খাল পর্যন্ত বাঁশ ও বরই গাছের ডালের বেড়ার মাধ্যমে অবরুদ্ধ করা হয়।
এতে আবুল কাশেম ও আবুল হাসেমের দুই পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। বাড়ির বাহিরে থাকা অন্য সদস্যরাও বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেননি। গ্রাম্য মাতাব্বরদের নির্দেশে তাদের বাড়িতে আটকে রাখতে দিন-রাত পাহারা দিত লোকজন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সালিশ বৈঠক করেও বিষয়টি মীমাংসা করতে ব্যর্থ হন।
আবুল কাশেম ভূইয়ার ছেলে মো. ছাদেক হোসেন ভূইয়া বলেন, মেম্বার ও গ্রাম প্রধানরা আমাদের মতামত না নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির সাতটি গাছ কেটে ফেলেছেন। আমরা বাধা দিলে তারা বেড়া দিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে বাহির হওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানালেও কোনো সুফল পাইনি।
স্থানীয় মাতাব্বর আবু তাহের বলেন, যে রাস্তাটি নির্মাণ হচ্ছে ওই রাস্তাটির অভাবে শতাধিক পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ নেই। ফসলি জমি থেকে ফসল তুলে বাড়িতে আনাও যথেষ্ট কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। সরকারি অর্থে রাস্তাটি নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় আমরা সবাই জায়গা ছেড়ে দিয়ে রাস্তা দিয়েছি। কেউ কেউ ঘর ভেঙেও রাস্তার জায়গা দিয়েছে। কিন্তু আবুল কাশেম ভূইয়া জায়গা না ছেড়ে খাল ভরাট করে রাস্তা নিতে বলেন। আমরা গ্রামবাসী অনেক বুঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে বাধ্য হয়ে বেড়া দেই। তিনি যেহেতু রাস্তার জন্য জায়গা দিবেন না, সেহেতু তিনি ও তার পরিবার কারও জায়গায় পা ফেলতে পারবে না।
মহিচাইল ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সফিক সিকদার বলেন, প্রায় ১৪শ ফুট রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে সবার ছেড়ে দেওয়া জায়গা দিয়ে। কিন্তু কাশেম ভূইয়ার মনগড়া কথায় এবং সমাজের কারও কথা না শোনায় রাস্তাটি মাত্র ৫০-৬০ ফুট কাজ বাকি আছে। যে কারণে গ্রামের মানুষ তাকে বেড়া দিয়ে আটকে রেখেছে।
চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজিয়া হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রধান করে ঘটনাস্থলে পাঠাব এবং তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
মন্তব্য করুন