একটি বাসকে ৪০ কিলোমিটার ধাওয়া করার পর ইটের আঘাতে চালকের চোয়াল ভেঙে দিয়েছে একদল মোটরসাইকেল আরোহী। হামলাকারীদের অনেকে ডাকাত বলে সন্দেহ করলেও পুলিশ বলছে, তারা ডাকাত নয়। আহত বাসচালক মো. সোহেলকে (৩৮) নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী ‘একুশে পরিবহনের’ একটি বাস কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা পার হলে তাড়া করে একদল মোটরসাইকেল আরোহী। তারা ১২-১৩টি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলে বাসটিকে ধাওয়া করতে থাকে। প্রায় ৪০ কিলোমিটার ধরে বাসটিকে অনুসরণ করার পর কুমিল্লার লাকসাম এলাকায় এসে বাসটি থামাতে দুই দফায় চালক সোহেলের দিকে ইট ছুড়ে মারে তারা। এতে তার চোয়াল থেঁতলে যায় এবং মাথা ও মুখে গুরুতর জখম হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সোহেলের মাথা ও চোয়ালে মোট ৩১টি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং নিচের পাটির দুটি দাঁত ভেঙে গেছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী জানান, ‘তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং উন্নতির দিকে।’
চালক সোহেল নোয়াখালীর সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘আমার শরীরে দুই দফায় ইটের আঘাত লাগে। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। কিন্তু যাত্রীদের কথা চিন্তা করে আমি বাস না থেমে চালিয়ে যাই। যদি থামাতাম, ওরা আমাকে মেরে ফেলত।’
তিনি আরও বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমি বাসটি নিয়ে নোয়াখালী সুধারাম থানার সামনে পৌঁছাই। সেখানে যাত্রীদের থানায় ঢুকিয়ে দিই। তাতেই সবাই প্রাণে বেঁচে যান।’
এ ঘটনার পর এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। বাসের মালিক প্রথমে সুধারাম মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে তাকে সোনাইমুড়ী থানায় যেতে বলা হয়। সেখান থেকেও তাকে লাকসাম থানায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়, যেহেতু ঘটনাস্থল কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় পড়েছে।
পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক কালবেলাকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তদন্ত চলছে। বাস মালিক মামলা করলে তা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, তারা ডাকাত নয়। মোটরসাইকেল চালকদের রাস্তা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
এ সাহসিকতার ঘটনায় চালক মো. সোহেল দেশজুড়ে সবার কাছ থেকে প্রশংসা পাচ্ছেন। অনেকে তাকে বীর বলে আখ্যায়িত করছেন, যিনি নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে ৪০ জন মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছেন।
মন্তব্য করুন