বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান ও বাবা ভান্ডারীর প্রপৌত্র রাহবারে শরিয়ত ও ত্বরিকত হজরত শাহসুফি মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী বলেছেন, সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা, পরকল্যাণে নিজেকে উজাড় করে দেওয়া ও মানুষের সেবায় সর্বদা প্রস্তুত থাকাই হচ্ছে হজরত বাবা ভাণ্ডারীর জীবন দর্শন।
তিন দিনব্যাপী ওরশ শরীফের সমাপনী দিবসে শনিবার (০৫ এপ্রিল) আন্জুমানে রহমানিয়া মইনিয়া মাইজ ভাণ্ডারীয়াসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। খতমে কুরআন, খতমে গাউছিয়া শরিফ, রওজায় গিলাফ চড়ানো, ফ্রি চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প, রক্তদান, ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়, মাদকের বিরুদ্ধে গণসচেতনার লক্ষ্যে র্যালিসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা লাখো ভক্ত-জনতার অংশগ্রহণে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মাইজভান্ডার দরবার শরীফে ত্বরীকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার পূর্ণতাদানকারী হযরত গাউছুল আজম শাহ্সুফি মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবা ভাণ্ডারীর (ক.) ৮৯ তম বার্ষিক ওরশ শরীফ মহাসমারোহ উদযাপিত হয়েছে।
দুপুরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আশেকানদের উদ্দেশে বিশেষ নসিহত ও বিশ্বশান্তি, নিপীড়িত মানবতার মুক্তি এবং দেশবাসীর ওপর আল্লাহর রহমত কামনায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের সাজ্জাদানশীন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান, বাবাভান্ডারীর প্রপৌত্র রাহবারে শরিয়ত ও ত্বরীকত হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী (মাজিআ)।
তিনি বলেন, আল্লাহ পাকের মহান ওলীগণ মানুষকে ইসলামের সহজ-সরল সঠিক পথই দেখান। আল্লাহ পাকের সেরা সৃষ্টি মানুষ। আর মানুষের সেবা ও কল্যাণ করাই সবচেয়ে বড় ইবাদত। মানুষের প্রতি দরদী ও কর্তব্যনিষ্ঠ হয়ে হযরত বাবাভাণ্ডারী (ক.) আল্লাহ পাকের যোগ্য প্রতিনিধিত্বের দায়িত্বই পালন করেন। তিনি ছিলেন মহান আল্লাহর রহমান নামের গুণাবলীর উজ্জ্বল প্রতীক। মানুষের সেবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্যজনের পথই দেখিয়েছেন তিনি। সৃষ্টির প্রতি ভালবাসা, পরকল্যাণে নিজেকে উজাড় করে দেয়া ও মানুষের সেবায় সর্বদা প্রস্তুত থাকাই হচ্ছে হযরত বাবাভাণ্ডারীর জীবন দর্শন।
তিনি আরো বলেন, আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থান্ধতা ও ভোগল্পিসাই আজ পৃথিবীতে যতো অশান্তি-হানাহানির মূল কারণ। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে ত্যাগের পথ ধরতে হবে। গণকল্যাণে নিজেদের ব্যাপৃত রাখতে হবে। এটাই হচ্ছে বাবা ভাণ্ডারীর শিক্ষা। হজরত গাউছুল আজম বাবা ভান্ডারী (ক.) আর্তমানবতা ও গণকল্যাণে নিজেকে নিবেদিত রেখে অবিস্মরণীয় কর্মকীর্তির স্বাক্ষর রেখে পৃথিবীতে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন বলে হযরত সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (মাজিআ) উল্লেখ করেন।
ওরশ মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন- মইনীয়া যুব ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা শাহজাদা সৈয়দ মেহবুব এ মইনুদ্দীন আল হাসানী, মইনীয়া যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শাহজাদা সৈয়দ মাশুক এ মইনুদ্দীন আল হাসানী।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজ ভাণ্ডারী ট্রাস্টের মহাসচিব খলিফা অ্যাডভোকেট কাজী মহসীন চৌধুরী, আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজ ভাণ্ডারীয়ার মহাসচিব আলহাজ মোহাম্মদ আলমগীর খান মাইজ ভাণ্ডারী, বিএসপির ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা রুহুল আমিন ভূইয়া চাঁদপুরী, মাওলানা মুফতি বাকিবিল্লাহ আজহারী, মুফতি মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, আনজুমান চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি খলিফা আলহাজ বোরহান উদ্দিন, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক খলিফা কাজী মো. শহীদুল্লাহ প্রমুখ।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, শনিবার রাতে দ্বিতীয় দফা আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পবিত্র ওরশ শরিফ শেষ হবে।
মন্তব্য করুন