পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ছাগল খোয়াড়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন পাঁচজন।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) উপজেলার শালডাঙা ইউনিয়নের অমরখানা গ্রামে মরিচ ক্ষেত নষ্ট অভিযোগে ছাগল খোঁয়াড়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে মরিচ ক্ষেতের মালিক ও তার ভাইদের মারধরের শিকার হন।
মারধরে একই এলাকার কৃষক লিপন ইসলাম, তার দুই ভাই স্বপন ইসলাম ও আব্দুর রাজ্জাক গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ঘটনায় গতরাতে ভুক্তভোগীর ভাই লিটন ইসলাম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ রাতেই মামলার প্রধান আসামি রাব্বি হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। রাব্বি শালডাঙা ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। রাব্বির দুই ভাই বাবলু ইসলাম ও জুয়েল রানাও একই মামলায় আসামি। তারা একই ইউনিয়নের অমরখানা গ্রামের নাছিরুল ইসলামের পুত্র।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে লিপন ইসলামের মরিচ ক্ষেত খায় রাব্বিদের ছাগল। ক্ষেত নষ্ট করার কারণে ২টি ছাগল খোয়াড়ে দিয়ে আসে লিপন। এতে ক্ষিপ্ত হয় রাব্বিরা। তারা খোয়াড় থেকে ছাগল ছাড়িয়ে এনে পুনরায় বেশ কয়েকটি ছাগল লিপনের ক্ষেতে ছেড়ে দিয়ে ওঁৎ পেতে থাকে। পরে লিপন পুনরায় ছাগল ধরতে গেলে তার ওপর আক্রমণ চালায় রাব্বি ও তার লোকজন। এ সময় লিপনের অন্য দুই ভাই ঘটনাস্থলে গেলে তারাও আক্রমণের শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় লিপন ও তার দুই ভাইকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া একই ঘটনায় রাব্বির দুই ভাই জুয়েল হক ও বাবলু হক আহত হয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে তারাও বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে আটক ইউপি সদস্য রাব্বির স্ত্রী সাবিনা আক্তার বলেন, ঘটনার সময় আমার স্বামী টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের বটতলী এলাকার খালেক ডাক্তারের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন। মারামারির ঘটনায় তিনি কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না। তাকে মিথ্যা অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবু নেমান কালবেলাকে বলেন, রোগীদের মাথায় একাধিক জখম ছিল, সেজন্য উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা কালবেলাকে বলেন, মারামারির ঘটনায় মামলা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে (শনিবার) আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।
মন্তব্য করুন