মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ধাওয়া খেয়ে পালালেন গরিবের টাকা খাওয়া ইউপি সদস্য

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আতিয়ার রহমান। ছবি : সংগৃহীত
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আতিয়ার রহমান। ছবি : সংগৃহীত

রংপুরের মিঠাপুকুরে গরিবের নামে বিভিন্ন বরাদ্দে নাম দেওয়ার প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আতিয়ার রহমানকে ধাওয়া দিয়েছে এলাকাবাসী। আতিয়ার রহমান উপজেলার চেংমারী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য।

ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, কর্মসৃজন কর্মসূচির বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দে নাম দেওয়ার কথা বলে ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আতিয়ার রহমান চেংমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বয়স্ক, বিধবা, কর্মসৃজন কর্মসূচিসহ সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে নাম দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন সালিশে টাকা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। গত ৩ বছর ধরে এসব কর্মকাণ্ড করে আসছেন তিনি।

জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল কবীর টিটুল এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর সেখানে সরকার একজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমানের সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যানের ভালো সখ্য ছিল। তাই এলাকাবাসী আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেনি। ৫ আগস্টের পর দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়। এরপর জনগণ প্রতিবাদ জানাতে থাকে।

রামেশ্বরপুর গ্রামের বাসিন্দা নুর আলম সিদ্দিক স্বাধীন বলেন, আতিয়ার রহমান অনেকের কাছে সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। বিচার-সালিশের নামেও দুই পক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। এ কারণে মানুষ তার ওপর ক্ষুব্ধ। গত ৩ বছরে মানুষের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকার মতো নিয়েছেন ওই ইউপি সদস্য। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ৯ নম্বর ওয়ার্ড রামেশ্বরপুর গ্রামে ওই ইউপি সদস্যের বাড়িতে শত শত ভুক্তভোগী মানুষ জড়ো হন। তারা ইউপি সদস্যকে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তার অপসারণ ও শাস্তি দাবি করেন। এক পর্যায়ে লোকজন বাড়ি ঘেরাও করেন। ওই দিন রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি খারাপ হলে জনরোষে বাড়ি থেকে কৌশলে পালিয়ে যান আতিয়ার। বিক্ষুব্ধ মানুষ তার বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। রাত ১২ পর্যন্ত বিক্ষোভ চলতে থাকে। শুক্রবারও বিক্ষোভ করেছেন তারা।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আতিয়ার রহমানের বক্তব্য নিতে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি। তিনি পলাতক থাকায় তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

চেংমারী ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে থাকা প্রশাসক ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মমিনুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা জানতে পেরেছি। খুব দ্রুত খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিকাশ চন্দ্র বর্মণ কালবেলাকে বলেন, ‘তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আ.লীগ নেতাদের হামলায় যুবদল নেতা মিরান নিহত

বর্তমান সংবিধান ও রাজনৈতিক বন্দোবস্ত অকার্যকর : এনসিপি নেতা শিশির

বিএনপির সঙ্গে দ্রুত নির্বাচন চায় হেফাজতও

শাহবাগের আগুন নিয়ন্ত্রণে

নরেন্দ্র মোদি কি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন?

পেসারদের নেতৃত্বের বাধা দেখেন না সুজন

ট্রেন পরিষ্কার করতে বছরে খরচ দেড় কোটি টাকা

সেই ইয়াসিনের পরিবারকে ঘর দেবেন তারেক রহমান

ভিনিসিয়ুসের পেনাল্টি মিসে বার্নাব্যুতে রিয়ালের বিপর্যয়

ইরানে হামলায় পিছু হটে আলোচনার প্রস্তাব ট্রাম্পের

১০

মৃত মুরগি নিয়ে থানায় বৃদ্ধা, বিচারের আশ্বাস ওসির

১১

চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন তামিম

১২

বাকৃবির গবেষণায় টমেটোর নতুন জাত উদ্ভাবন

১৩

ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল ২ যুবকের

১৪

বাকির টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে পেটালেন আ.লীগ নেতা

১৫

অবশেষে মুক্ত হলেন ১৮ দিন অবরুদ্ধ থাকা দুই পরিবার

১৬

শাহবাগে আগুন

১৭

সায়মা ওয়াজেদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রচার, যা জানা গেল

১৮

মাইক্রোসফটের হাতে ফিলিস্তিনিদের রক্ত : এক নারীর প্রতিবাদ

১৯

সিরাজগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৩

২০
X