পটুয়াখালীর বাউফলের এক যুবদল নেতার ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ওই ভিডিও সম্পর্কে অভিযুক্ত যুবদল নেতা বলছেন, ভিডিওটা এডিট করা ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। কোনো মহল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি।
অভিযুক্ত যুবদলের ওই নেতার নাম মো. মশিউর রহমান পলাশ। তিনি বাউফল উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
দলীয় কয়েকজন কর্মী সমার্থক জানান, শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থেকেই ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনীতি সচেতন স্থানীয়দের মাঝে বিরুপ সমালোচিত হতে থাকে। প্রায় চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, চোখে চশমা ও গায়ে সাদা গেঞ্জি পরিহিত যুবদল নেতা মশিউর রহমান পলাশ একটি পাকা দেয়ালের রুমে খাটের ওপরে বসা। বাম হাতে তার কিছুটা লম্বা আকৃতির ফয়েল পেপারের মতো এবং ডান হাতে একটি গ্যাসলাইট। চিকন পাইপের মতো কিছু একটা ঠোঁটে চেপে ধরে ধোঁয়া টানছেন। ফয়েল পেপারের নিচে গ্যাসলাইটের আগুনের তাপে উপরে রাখা কিছু একটা উত্তপ্ত করে ধোঁয়া গ্রহণের মতো এক প্রক্রিয়া।
এ বিষয়ে ওই যুবদল নেতা মশিউর রহমান পলাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিডিওটির সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, এটি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এডিট বা সুপার এডিট করা। কোনো কুচক্রি মহল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ সাজানো ও ভিত্তিহীন। ডিডিওটি গতকাল সন্ধ্যার দিকে আমার চোখে পড়ে। সেখানে পেছনের দেওয়ালে ঝোলানো ক্যালেন্ডারে ২০১৯ সালের দেখা যায়। অনেক আগের একটি ভিডিও। আমি জীবনে কখনো ওই রকম কোনো রুমে যাই নাই।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে বিএনপির অপর একটি গ্রুপ অথবা ফ্যাসিস্ট দলীয় লোকজনের পেছনে জড়িয়ে থাকতে পারে। অন্য একটি ঘটনায় আমাদের দলের আহ্বায়ককে কেন্দ্র থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এটা এখন স্পষ্ট যে, চক্রান্ত করে আমার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এসব করা হচ্ছে। কেউ এই ভিডিও এডিট বা সুপার এডিট করে ছড়িয়েছে।
এ বিষয়ে কি পথ অবলম্বন করবে এবং দলীয় কোনো ধরনের চাপ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কালবেলাকে তিনি বলেন, ‘আমি সংবাদ সম্মেলন করব। দলের উর্ধ্বতন মহল থেকে এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো ধরনের কিছু জানতে চাওয়া হয়নি।’
বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, ‘পলাশ ভালো ছেলে। ও একসময় অসুস্থ ছিল। এরপর থেকে নেশাজাতীয় কোনো কিছুর সঙ্গে জড়িত জানা যায়নি। এগুলো আগের ভিডিও হতে পারে। এডিট করে হয়রানি জন্যে প্রচার করা হচ্ছে।’
মন্তব্য করুন