চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদকে দুটি পৃথক হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। বায়েজিদ বোস্তামী থানা ও চান্দগাঁও থানা—প্রতিটি থানায় ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
গত ১৫ মার্চ রাতে ঢাকার বসুন্ধরা সিটি থেকে গ্রেপ্তারের পর ১৬ মার্চ আদালতে হাজির করলে তাহসিন ও আনিছ হত্যা মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। তবে রিমান্ডেও সে অপরাধের দায় স্বীকার করেনি। পুলিশ জানায়, সাজ্জাদ অত্যন্ত চতুর এবং পেশাদার সন্ত্রাসী।
সাজ্জাদের বিরুদ্ধে রয়েছে ট্রিপল মার্ডারসহ অন্তত ১৬টি মামলায় ওয়ারেন্ট। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালেই ২৯ মার্চ রাতে চট্টগ্রাম নগরের সিরাজদৌল্লা রোডে সিনেমাটিক স্টাইলে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে, যার পেছনে সাজ্জাদ ও তার অনুসারীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় সাজ্জাদের স্ত্রী শারমীন আক্তার তামান্নাও হুকুমের আসামি। তিনি আগে থেকেই ফেসবুক লাইভে স্বামীকে ‘বান্ডিলে বান্ডিলে টাকা ঢেলে’ মুক্ত করার হুমকি দিয়েছিলেন। পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করায় তিনিও এখন তদন্তের আওতায়।
নগর পুলিশের উপকমিশনার আমিরুল ইসলাম জানান, ‘সাজ্জাদের অপরাধ নেটওয়ার্ক নির্মূলের জন্য কাজ চলছে। রিমান্ডে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’
তামান্নাকে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে তিনি জানান, ‘নারী হিসেবে তাকে সহানুভূতির চোখে দেখা হলেও, তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড অপরাধজগতকে উৎসাহিত করছে। তাই তাকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।’
রিমান্ডে সাজ্জাদের কাছ থেকে কী ধরনের তথ্য পেয়েছেন জানতে চাইলে বায়েজিদ বোস্তামি থানার সেকেন্ড অফিসার নূর ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘সাজ্জাদ হোসেন পেশাদার সন্ত্রাসী। রিমান্ডে সে অপরাধের স্বীকারোক্তি দেয়নি। তবে বলেছে, ‘আমি নিজে কিছু করিনি।’ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।’
মন্তব্য করুন