বগুড়া শহরের সাতমাথায় মধ্যরাতে মদ পান করে পুলিশের সঙ্গে মাতলামি করার অভিযোগে শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (২ মার্চ) বগুড়া জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সরকার মুকুল এবং সাধারণ সম্পাদক রাকিকুল ইসলাম শুভ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। সরকার মুকুল জানান, গ্রেপ্তার রুহুল আমিন বগুড়া শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন। তিনি মদ্যপ ছিলেন। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে বগুড়া মডেল জেলা। এখানে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ালে প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই। মদ পান করে মাতলামি করায় রুহুল আমিনকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা এলাকায় পুলিশের এক ওসির সঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় মাতলামি করেন রুহুল আমিন ও তার দুই সহযোগী। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা এবং তার সঙ্গে থাকা দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। তিনি পুলিশ সুপারের বাসায় ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সপরিবার যোগ দিতে এসেছিলেন। গ্রেপ্তারের আগে ওই তিন ব্যক্তি ওসির স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- বগুড়া শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন (৩৬), স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আহসান হাবিব (১৮) ও নুরুল ইসলাম (১৮)। তারা সবাই বগুড়া শহরের মালগ্রাম চাপড়পাড়ার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত দেড়টা থেকে ২টার দিকে শেরপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম পুলিশের গাড়ি নিয়ে চা পান করতে সাতমাথায় যান। এ সময় গাড়িতে ওসির স্ত্রী-সন্তান বসেছিলেন। সেসময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রুহুল আমিন কয়েকজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে মধ্যরাতে সাতমাথা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এসময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। পুলিশের গাড়িতে নারী দেখে স্বেচ্ছাসেবক দলের ওই নেতা গাড়িতে বসা নারীর পরিচয় জানতে চান। এ নিয়ে ওসির সঙ্গে রুহুল আমিনের বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত সদর ফাঁড়ির পরিদর্শক সেরাজুল ইসলাম রুহুল আমিনসহ তিনজনকে আটক করেন।
বগুড়া সদর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দিন কালবেলাকে বলেন, গ্রেপ্তার তিন ব্যক্তি মধ্যরাতে সাতমাথায় মদ্যপ অবস্থায় মাতলামি এবং সাধারণ মানুষকে উত্ত্যক্ত করছিলেন। এসপি স্যারের বাংলোয় অনুষ্ঠান শেষে শেরপুর থানার ওসি তার গাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সাতমাথায় চা খেতে গেলে তার সঙ্গেও ওই মদ্যপ ব্যক্তিরা মাতলামি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এছাড়া তারা বেশ কয়েকজন ব্যক্তির ওপরও চড়াও হন। পরে তাদের আটক করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকের দেওয়া সনদ অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। মদ পানের অপরাধে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন