বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় তরমুজ চুরিতে বাধা ও দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় পিটিয়ে আহত করা এক তরমুজ চাষির মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভোরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রানীরহাটের দিয়ারচর এলাকায় তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়।
মৃত্যু হওয়া ওই চাষির নাম কুদ্দুস হাওলাদার (৪৫)। তিনি ওই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে।
নিহতের মামাতো ভাই মজিবুর রহমান জানান, বাড়ির পাশের জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন কুদ্দুস হাওলাদার। স্থানীয় বখাটেরা তার জমি থেকে কিছু তরমুজ নিয়ে যায় এবং চাঁদাও দাবি করে। এর প্রতিবাদ জানালে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কুদ্দুস হাওলাদারকে একা পেয়ে বেধড়ক পেটান মিরাজ, আনোয়ার, হাসনাইন, সরোয়ার সানি, মতিউর রহমান, ফয়সালসহ ১০-১৫ জন।
বাকেরগঞ্জ থানাধীন চরামদ্দি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এনামুল হক শহীদ জানান, জায়গা বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করেছিলেন কৃষক কুদ্দুস হাওলাদার। কিন্তু কিছুদিন ধরে পার্শ্ববর্তী চরাদি এলাকার কিছু লোক রাতের আঁধারে তার ক্ষেতের তরমুজ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল। সম্প্রতি তারা দিনের বেলায়ও তরমুজ নিয়ে যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুদ্দুস হাওলাদার বাধা দিলে তাকে ক্ষেতের পাশে থাকা রেইনট্রি গাছের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ওই বখাটেরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আমাদের ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু তার অবস্থা খারাপ দেখে আমরা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠাই। পরে সেখানে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আকলিমা বেগম বাদী হয়ে নামধারী ৯ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে অভিযুক্ত করে বাকেরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলার এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে চরাদী ইউনিয়ন থেকে আলাউদ্দিন মোল্লা নামে একজনকে চরামদ্দি পুলিশ ফাঁড়িতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম কালবেলাকে জানান, কুদ্দুস হাওলাদার নামে এক তরমুজ চাষিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী হত্যা মামলার এজাহার দিয়েছেন, মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহত কৃষকের লাশের সুরতহাল শেষ হয়েছে। ময়নাতদন্ত করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মন্তব্য করুন