‘আমরা খুব কষ্টে দিন পার করছিলাম। কয়েক দিনের মধ্যে ১৫ লাখ টাকা পাঠাবে বলেছিল ইয়াসিন। কিন্তু আমার সব শেষ হয়ে গেল। সে যুদ্ধে যাবে জানলে তাকে বিদেশে পাঠাইতাম না। সরকারের কাছে একটাই দাবি, আমার ছেলের লাশ যেন আমার কাছে আইনা দেয়।’
বিলাপ করতে করতে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারানো ইয়াসিন শেখের মা ফিরোজা খাতুন। ছেলের ছবি হাতে নিয়ে মায়ের কান্না থামছেই না, বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।
ইয়াসিন শেখের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা গ্রামে।
জানা গেছে, বড় ভাই রুহুল আমিন তার পড়াশোনা ও বিদেশযাত্রার খরচ দিয়েছেন। ৪০ শতক জমি বিক্রি ও ধার-দেনা করে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে গত বছরের ২২ আগস্ট রাশিয়ায় পাঠান।
বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে হবে সেনাসদস্য। কিন্তু দরিদ্র পরিবারে সচ্ছলতা আনতে ভালো বেতনে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতে গত বছর রাশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি।
মস্কো থেকে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার দূরের ওই কোম্পানিতে তিন মাস চাকরির পর বাবার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে যোগ দেন ইউক্রেন যুদ্ধে। গত ২৬ মার্চ ইউক্রেনের মিসাইল হামলায় থেমে যায় সেই স্বপ্নের যাত্রা।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) ইয়াসিনের এক সহযোদ্ধা ইয়াসিনের মৃত্যুর খবর জানান তার পরিবারকে। মরদেহ ফিরে পেতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা পরিবারের।
২০১৬ সালে মারা যায় ইয়াসিনের বাবা আব্দুস সাত্তার শেখ। মা ফিরোজা খাতুন ও ভাই রুহুল আমিন শেখকে নিয়ে ছিল অভাবের সংসার। স্কুল-কলেজে পড়াকালীন সময়ে অন্যের জমিতে কাজ করে লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করতেন তিনি নিজেই।
ইয়াসিন গৌরীপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর। ঢাকার পল্লবীর সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজে ২০২২-২৩ সেশনের ডিগ্রির শিক্ষার্থী ছিলেন। ইয়াসিনের মৃত্যুর খবরে পরিবারসহ এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাদুল হাসান জানান, বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে সব আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন