চট্টগ্রামে মিরসরাই উপজেলায় পুলিশের সামনে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে মিরসরাই উপজেলার বামন সুন্দর দারোগারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য। অন্যদিকে অভিযুক্তরা হলেন-বামন সুন্দর দারোগারহাট এলাকার শহিদুল ইসলাম ভুট্টু, মিজান, মঞ্জুর আলম, ছোটন, ছাইদুল্লাহ, সাইফুল, ওমর ফারুক, ইউসুফ, ফরিদসহ আরও কয়েকজন। ৭নং কাটাছড়া বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম মেম্বারের অনুসারী বলে এলাকায় পরিচিত।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ১৯৪৯ সাল থেকে বাড়ির পাশের কিছু জায়গা দলিল মূলে আমরা ভোগদখল করে আসছি। গত বছরের ৩০ আগস্ট হঠাৎ একই এলাকার শহিদুল ইসলাম ভুট্টু, মিজান, মঞ্জুর আলম, ছোটন, ছাইদুল্লাহ, সাইফুল, ওমর ফারুক, ইউসুফ, ফরিদসহ আরও কয়েকজন এই জায়গা দখল করতে যান। পরে স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। দুই দফা বৈঠকের পর শুক্রবার সালিশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে অভিযুক্তরা তা না মেনে বৃহস্পতিবার সকালে সালিশ করতে আমাদের প্রতি চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। আমরা সালিশে উপস্থিত হতে পারিনি বলে অভিযুক্তরা এলোপাতাড়ি আমাদের গাছগাছালি কাটতে শুরু করেন।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি খারাপ হয়ে উঠলে জাতীয় জরুরি পরিসেবা (৯৯৯) নম্বরে কল দেই। পরে জোরারগঞ্জ থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযুক্তরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তোয়াক্কা না করেই আমার ওপর দেশীয় অস্ত্র, দা-ছুরি ও লাঠসোঠা নিয়ে অতর্কিত হালমা করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে আমাকে হত্যা করতে আসে। আমি দৌঁড়ে না সরে গেলে হয়তো জীবিত থাকতাম না। আমরা ১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন ও সন্ত্রাস মুক্ত দেশ গড়তে যুদ্ধে গিয়েছিলাম। তাই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আস্থাশীল। আশা করি দেশের আইনের মাধ্যমে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার পাবো।
এদিকে অভিযুক্তদের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ থানার ওসি সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম কালবেলাকে বলেন, জায়গা জমি সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে ঝামেলা বলে শুনেছি। তবে এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন