নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৩৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সরু রেলগেটে বাড়ছে যানজট, ভোগান্তিতে হাজার পথচারী

রেলগেট সরু হওয়ায় সৃষ্ট যানজট। ছবি : কালবেলা
রেলগেট সরু হওয়ায় সৃষ্ট যানজট। ছবি : কালবেলা

নওগাঁ রাণীনগর হয়ে সড়ক পথে চলাচল করতে হয় রাণীনগর-আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ সড়কে। আবার রেলপথে চলাচলের জন্যও রাণীনগরে আছে রেলস্টেশন। আর সড়ক ও ট্রেন পথের সংযোগস্থল উপজেলার রেলগেট ও রেলস্টেশন মোড় নামক দুটি স্থান। কিন্তু সরু রেলগেটে দিন দিন বাড়ছে যানজট। ফলে পথচারীদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক ও রাণীনগর-আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ সড়ক দুটি প্রশস্তকরণ হওয়ার কারণে দুটি সড়ক দিয়ে ছোট-বড় যানবাহনের চলাচল কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন ট্রেন চলাচলের সময় রেলগেট বন্ধ করার কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আর সেই যানজটের কবলে পড়ে প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কয়েকটি জেলার পথচারীদের।

উত্তরবঙ্গের নওগাঁ, জয়পুরহাট, নাটোরসহ বগুড়ার কিছু অঞ্চলের মানুষ বর্তমানে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছে। ফলে এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিনই কয়েক হাজার ছোট-বড় যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করে।

এছাড়া প্রতিদিনই উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহীর সঙ্গে যোগাযোগকারী যাত্রীবাহী ও মালবাহী ছোট-বড় ৩০টি ট্রেন চলাচল করে। ফলে সরু রেলগেইটের কারণে দিনের সিংহ ভাগ সময়ই ট্রেন চলাচলের সময় যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ঈদের সময় চারদিক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে এবং ট্রেন চলাচলের সময় সরু রেলগেট বন্ধ থাকার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের।

এতে করে যানজটের শিকার হয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার পথচারীদের শত শত কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করেন। দ্রুতই সড়কের মতো রেলগেট ও রেলস্টেশন মোড়ে আধুনিকতার ছোঁয়ার মাধ্যমে প্রশস্তকরণ বর্তমানে সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার আবাদপুকুর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, অফিসিয়াল বিভিন্ন কাজ করতে উপজেলা পরিষদে যেতে কিংবা জরুরি কোনো রোগীকে উপজেলা এবং জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার সময় রেলগেটে গিয়ে যানজটে আটকে পড়ার কারণে অনেক রোগীকে মৃত্যুবরণও করতে হয়েছে। যাতায়াতের অধিকাংশ সময়ই সরু রেলগেটে গিয়ে যানজটের কবলে পড়তে হয়। আর ঈদের সময় গিয়ে যানবাহনের চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় যানজটের শিকার হতে হচ্ছে।

উপজেলা সদরের অটোভ্যান চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সরু রেলগেট বর্তমানে আমাদের গলার কাঁটাতে পরিণত হয়েছে। যখন ট্রেনের কারণে গেট বন্ধ থাকে, তখন দুই পাশে প্রায় হাফ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে যানবাহনের জট লেগে যায়। এমন সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে দ্রুতই রেলগেট সংলগ্ন এলাকা থেকে পরিত্যক্ত ভবন ও দোকানগুলো ভেঙ্গে রেলগেটের সড়ক ও মোড় বড় করার কোনো বিকল্প নেই।

গণমাধ্যমকর্মী মামুনুর রশিদ জানান, নওগাঁসহ কয়েকটি জেলার পথচারীরা চলাচলের সুবিধার জন্য কোটি কোটি টাকা দিয়ে সড়ক-মহাসড়ক আধুনিকায়ণ করা হয়েছে। অথচ সরু এই রেলগেইটের এখানে এসে পড়তে হচ্ছে যানযট ভোগান্তিতে। দিনের বেলায় প্রায়শই রেলস্টেশন ও রেলগেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের কবলে পড়ে কর্মঘণ্টা নষ্ট করতে হচ্ছে। এছাড়া মোড়ের চারপাশে দোকান থাকার কারণে একে অপরকে দেখতে না পাওয়াই মাঝেমধ্যেই মরণঘাতি দুর্ঘটনাও ঘটছে। দ্রুতই দুটি মোড়কে প্রশস্তকরণ করার মাধ্যমে হাজার হাজার পথচারীদের প্রাণের দাবি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

রাণীনগর রেলস্টেশনের সহকারি মাস্টার আতিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, রাণীনগরের ওপর দিয়ে দিনের বেলায় ব্রডগেজ ও মিটারগেজ মিলে ১৬টি ট্রেন আর রাতের বেলায় ১৪টি ট্রেন চলাচল করে। এছাড়া মালবাহী বিভিন্ন ট্রেনতো আছেই। বিশেষ করে দিনের বেলায় ট্রেন চলাচলের সময় ছোট্ট রেলগেইটটি অধিকাংশ সময়ই বন্ধ রাখতে হয়। এতে করে গেট পার হওয়ার সময় ব্যস্ততম দুটি সড়ক ও মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়টি আমরাও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছি।

সান্তাহার রেলওয়ে বিভাগের উর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান কালবেলাকে জানান, রাণীনগরের রেলস্টেশন ও রেলগেটসহ আরো কয়েকটি রেলগেট আধুনিকায়ণ করার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিতভাবে আবেদন প্রেরণ করেছি। অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় কাজ শুরু করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান কালবেলাকে জানান, দুটি ব্যস্ততম সড়কের মাঝে সরু রেলস্টেশন ও রেলগেট মোড় এলাকায় অধিকাংশ সময় উপজেলার পশ্চিম প্রান্ত থেকে পূর্বপ্রান্তে যেতে রেলগেট এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে যানজটের শিকার হতে হয়। এই দুটি মোড়কে প্রশস্তকরণ করে কীভাবে যানজট মুক্ত করা যায় সেই বিষয়ে রেল বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্রুতই যোগাযোগ করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নওগাঁ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল হক রাসেল কালবেলাকে জানান, রাণীনগরের ওই দুটি মোড় প্রশস্তকরণের মাধ্যমে আধুনিকায়ণ করা খুবই জরুরি। প্রতিদিনই কেউ না কেউ যানজট নিয়ে ফোন করে। এছাড়া এক দিক থেকে অপর দিকের রাস্তার কোনো অংশ দেখতে না পাওয়ার কারণে মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। এমন সমস্যা থেকে উত্তোরণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন রেল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে জায়গাটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে আমরা রেলগেইট প্রশস্তকরণ কাজ শুরু করার প্রকল্প গ্রহণ করবো।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাওরের গাছে ঝুলছিল সবজি বিক্রেতার লাশ 

‘আমার সব শেষ হয়ে গেল’

আট সন্তান থাকতেও ৯০ বছরের বৃদ্ধার জায়গা খোলা আকাশের নিচে

চুরি করতে গিয়ে পোশাক ও ছবি ফেলে গেল চোর

মা-বাবা, দুই বোনের পর চলে গেলেন প্রেমাও

ট্রাম্পের শুল্কারোপ / শত বছরের বিশ্ব বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন

ড. ইউনূসের সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক 

কাহালু সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন

বাংলাদেশে ইসলামি চরমপন্থা নিয়ে প্রেস সচিবের পোস্ট

আগে ছিলেন আ.লীগ নেতা, বিএনপিতে পেলেন সদস্যসচিবের পদ

১০

জনবসতিহীন পেঙ্গুইন দ্বীপে ট্রাম্পের শুল্কারোপ

১১

মোদিকে ছবি উপহার দিলেন ড. ইউনূস

১২

থাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক

১৩

হাসিনার প্রত্যর্পণসহ যেসব বিষয় আলোচনা হলো ড. ইউনূস-মোদির

১৪

আসিয়ান সদস্যপদের জন্য থাই বিশিষ্টজনদের সমর্থন চাইলেন ড. ইউনূস

১৫

দুদিনেও জ্ঞান ফেরেনি প্রেমার, স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে আরাধ্যকে

১৬

রাত থেকে বন্ধ অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রি

১৭

মাদারীপুরে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ২৫ দোকান

১৮

চিকেন’স নেক নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভারত, ভারী অস্ত্র মোতায়েন

১৯

পাঁচ বছরের জেল হতে পারে আনচেলত্তির!

২০
X