ঈদের চতুর্থ দিনেও পর্যটকদের ঢল নেমেছে দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে। বৃহস্পতিবার (০৩ এপ্রিল) সকাল থেকে দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজার-হাজার পর্যটক মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ডমুখী হয়েছেন।
উপজেলার পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে প্রকৃতিকন্যা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও চা বাগানে ঘুরতে আসা সারা বছরই দেশের নানা প্রান্ত থেকে কমবেশি এ উপজেলায় পর্যটকের পা পড়ে। আর বড় কোনো উৎসবের ছুটি হলে তো কথাই নেই! এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৯ দিনের সরকারি ছুটি মিলেছে।
তবে এবার দীর্ঘ ছুটিতে ঈদের উৎসবে পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে দেশের প্রধান প্রকৃতি কন্যা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে। ফলে এ এলাকা ঘিরে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ইজারাদারসহ সবার মুখে ফিরেছে তৃপ্তির হাসি।
সরেজমিন বৃহস্পতিবার বিকেলে দেখা যায়, মৌলভীবাজার-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের কাঁঠালতলি বাজার থেকে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত পর্যটনকেন্দ্রের সড়কটি ভীষণ ব্যস্ত। পর্যটকরা বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলে হইহুল্লোড় করে ছুটে চলেছেন প্রকৃতিকন্যা মাধবকুণ্ডের দিকে। জলপ্রপাতের প্রবেশ ফটকের সামনের টিকিট কাউন্টারে পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় ছিল। বিভিন্ন পণ্যের দোকান, খাবার হোটেলগুলোতেও পর্যটকের ভিড় দেখা গেছে।
পায়ে হেঁটে জলপ্রপাতের দিকে এগোতেই দেখা গেল, জলপ্রপাত এলাকায় পর্যটকের উপচেপড়া ভিড়। হইহুল্লোড়ে মেতে ওঠেছেন পর্যটকেরা। কেউ কেউ জলপ্রপাতের ঝরনার পানিতে গোসল করছেন। কেউ বা ছবি তুলছেন প্রিয়জনের সঙ্গে। জলপ্রপাতের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে কেউ কেউ সেলফি তুলছেন। স্থানীয় আলোকচিত্রীরাও পর্যটকদের ছবি তুলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ঢাকা থেকে সপরিবারে বেড়াতে আসেন জাহিদ হাসান তিনি বলেন, এ প্রথম মাধকুণ্ডে এসেছি। এখানকার পরিবেশ খুবই সুন্দর। অন্য এলাকার চেয়ে সিলেট ও মৌলভীবাজারে অনেক সুন্দর সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের সিলেট, মৌলভীবাজারের এসব পর্যটন স্পট ঘুরে দেখা দরকার। পাশাপাশি পর্যটন স্পটগুলোর প্রাকৃতিক দৃশ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করলে এ খাত থেকে অনেক রাজস্ব আসবে।
এদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, সিলেটসহ আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে পর্যটক আসতে দেখা গেছে। তবে মানসম্মত আবাসিক হোটেল না থাকায় পর্যটকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের প্রধান ফটকের ম্যানেজার সাজু আহমদ জানান, সকাল ১০টা থেকেই মাধবকুণ্ডে লোকজন আসতে শুরু করেন। প্রতিদিন বেলা বাড়ার সাথে পর্যটকের আগমনও বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত দুই হাজারের বেশি পর্যটক মাধবকুণ্ডে প্রবেশ করেন। তবে ছুটি আরও আছে। তাই পর্যটক সমাগম বাড়বে বলে আশা করছি। ব্যাপক পর্যটকের আগমনে মাধকুণ্ডের ব্যবসায়ীদের মুখেও হাসি ফুটেছে।
মাধবকুণ্ড পর্যটন পুলিশের ইন্সপেক্টর আব্দুল কুদ্দুস জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে মাধবকুণ্ডের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন সেজন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পর্যটন পুলিশের সার্বক্ষণিক নজরদারির কারণে এখানে কোনো ধরণের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই স্থানীয় ও দূরের পর্যটকরা আনন্দ উপভোগ করে বাড়ি ফিরেছেন। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকের আগমন ঘটার সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই পর্যটন পুলিশ মাধবকুণ্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে মাধবকুণ্ডে আনন্দ উপভোগ করছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পর্যটন পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি বন বিভাগ ও ইজারাদার পক্ষের লোকজন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
মন্তব্য করুন