গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মাত্র ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার বিচার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (০১ এপ্রিল) রাতে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের চেউখালী গ্রামে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে। আর এ জরিমানার টাকাতে সালিশে বিতরণ করা হয় মিষ্টি।
স্থানীয়রা বলছেন, ধর্ষণের চেষ্টার মতো এমন অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করার কোনো সুযোগ নেই। অথচ অভিযুক্ত ব্যক্তি আর এমন কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে মুচলেকা দিয়ে ছাড় পাওয়া সমাজে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৩০ মার্চ) রাতে উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের চেউখালী গ্রামের মোজাহার আলী এক গৃহবধূর ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং শ্লীলতাহানি ঘটান। এ ঘটনায় পরদিন (ঈদের দিন) গৃহবধূর স্বামী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চেয়ে আবেদন করেন। পরে বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিয়ে গ্রামে সালিশ বসানো হয়। ওই সালিশে ইউপি সদস্য আমানুল্লাহসহ গ্রামের মাতব্বরেরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে শমসের আলী, আবু সাঈদ, আলা হোসেন ও আবেদ আলী নেতৃত্ব দেন। তারা এলাকার মাতব্বর ও প্রভাবশালী। সালিশে মাতব্বরদের জেরার মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।
মাতব্বররা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অপরাধের জন্য ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়াবেন না বলে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়। আবার এ ধরনের অপরাধে জড়ালে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হবে বলে লিখিত মুচলেকায় উল্লেখ করা হয়।
সালিশের বিষয়ে ইউপি সদস্য আমানুল্লাহ বলেন, বিষয়টির সুরাহা করা হয়েছে। কীভাবে করা হলো, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান।
সালিশে উপস্থিত থাকা শমসের আলী নামের এক মাতব্বর বলেন, বিচার করলে অনেক কিছু করতে হয়, সবদিক বিবেচনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিযোগকারী ব্যক্তিকে ১৫ হাজার টাকা, স্থানীয় মসজিদে ২ হাজার টাকা এবং ৩ হাজার টাকার মিষ্টি কিনে সালিসে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, পরিবারের পক্ষেও এমনটিও চাওয়া হয়েছিল। উভয় পরিবারের দিক বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তে উভয়পক্ষ খুশি। তবে অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
আব্দুর রহমান নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ধর্ষণচেষ্টার মত এমন অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। এতে অপরাধীরা ধর্ষণের মত এমন ঘৃণ্য অপরাধে উৎসাহিত হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বকুল সরদার জানান, ঈদের দিন তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তবে ওই সময় ছুটি থাকার কারণে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে বিষয়টি মৌখিকভাবে দেখতে বলেছেন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিষয়টির সমাধান না হলে তিনি বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করবেন বলেও জানান।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণেরচেষ্টা হয়ে থাকলে তা গ্রাম্য সালিশে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। যদি থানায় জানানো হয়, তাহলে মামলা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন