পটুয়াখালীর সাগর কন্যা খ্যাত কুয়াকাটা, যেখানে দাঁড়িয়ে একইসঙ্গে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। দীর্ঘ এক মাস পর্যটক শূন্য থাকার পর, ঈদুল ফিতরের টানা ৯ দিনের ছুটিতে প্রাণ ফিরেছে কুয়াকাটায়। আশানুরূপ পর্যটক থাকায় উচ্ছ্বসিত পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ঈদের চতুর্থ দিনে সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে ১৮ কিলোমিটারের সমুদ্র সৈকত।
ঈদের দিন বিকেল থেকেই সৈকতে এসব পর্যটকের আগমন ঘটে। আগত পর্যটকরা স্নিগ্ধ সৈকতে আনন্দ উল্লাসে মেতেছেন। অনেকে সমুদ্রের নোনা জলে গাঁ ভাসিয়ে হইহুল্লোড়ে মেতেছেন। অনেকে প্রিয়জনকে নিয়ে সেলফি তুলে স্মৃতির পাতায় রেখে দিচ্ছেন। অনেকে সৈকতের বিভিন্ন বাহনে চড়ে একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে দেখছেন। কেউবা আবার বেঞ্চিতে বসে সমুদ্রের তীরে আছরে পড়া ঢেউসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
অনেকে স্পিডবোর্ট ও ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সৈকতে। মোটকথা সৈকতে বিরাজ করছে ঈদ উৎসবের আমেজ। এদিকে গঙ্গামতি, লেম্বুর বন, ঝাউবন ও শুটকি পল্লীসহ সব পর্যটন স্পটে রয়েছে পর্যটকদের উচ্ছাসিত উপস্থিতি। আগতদের ভিড়ে বিক্রি বেড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। শতভাগ বুকিং রয়েছে অধিকাংশ হোটেল মোটেল। নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা।
পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে আসা পর্যটক আশা মনি বলেন, ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুয়াকাটায় এসেছি। কুয়াকাটা অনেক সুন্দর একটি জায়গা।
খুলনা থেকে আশা মাহফুজা মৌ বলেন, ঈদ উপভোগ করতে ঈদের আগের রাতেই কুয়াকাটা এসেছি। কুয়াকাটার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখেছি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তসহ বিভিন্ন স্পটে ঘুরেছি। অনেক ভালো লেগেছে।
হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোতালেব শরীফ কালবেলাকে বলেন, প্রথম সারির যেসব আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট আছে সেগুলো প্রায়ই রিজার্ভড। আমরা খেয়াল রাখছি যাতে কেউ অতিরিক্ত রুম ভাড়া না নিতে পারে। পাশাপাশি কমিউনিটি ট্যুরিজমের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি।
কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইলিয়াস হোসেন কালবেলাকে বলেন, আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার আমরা প্রস্তুত আছি। গোসলের সময় পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনার শিকার না হয় সে বিষয়ে আমাদের নজরদারি রয়েছে।
কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থানগুলো পোশাক পরিহিত ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রতিকার ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
মন্তব্য করুন