জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, সংস্কার ও নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। সংস্কারও যেমন আবশ্যক, নির্বাচনও আবশ্যক। নির্বাচন কী সংস্কারের মধ্য দিয়ে হবে, নাকি সংস্কারবিহীন নির্বাচন হবে এ আলাপই এখন চলছে।
বুধবার (২ এপ্রিল) রংপুরের পীরগাছা বাজারে গণসংযোগের সময় কালবেলার প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, তারা দাবি জানিয়েছেন, সংস্কারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবনাগুলো দেওয়া হয়েছে, সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্প মেয়াদি, মধ্যম মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি এই তিন ক্যাটাগরিতে সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা আসতে পারে। সেক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদিও মধ্যম মেয়াদি যে সংস্কারগুলো আছে সেগুলো এ সরকারের হাত ধরেই শুরু হবে এবং তার মধ্য দিয়েই সরকার নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হবে। নির্বাচিত সরকার যে আসবে তারা দীর্ঘ মেয়াদি যে সংস্কারগুলো আছে সেগুলো এবং যে সংস্কারগুলি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হবে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ডিসেম্বর বা সামনের বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচনের যে সময়সীমার কথা বলা হয়েছে আমরা মনে করি সরকারের যদি সদিচ্ছা থাকে এবং অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের এই সংস্কার উদ্যোগের সাথে যদি একাত্ম হয় ও সহযোগিতা করে সেক্ষেত্রে অবশ্যই এই সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা যে বিষয়টা সব সময় বলে এসেছি, বাংলাদেশে এখন নতুন সংবিধানের একটা বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। সেক্ষেত্রে গণপরিষদ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।
এনসিপির এই নেতা বলেন, গণপরিষদ নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচনকেও মুখোমুখি দাঁড় করানোর একটা প্রচেষ্টা আমরা অনেকের মধ্যে খেয়াল করি। আমরা মনে করি জাতীয় নির্বাচন ও গণপরিষদ নির্বাচন একটা নির্বাচনের মধ্য দিয়েই হতে পারে। সেক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যারা থাকবেন গণপরিষদের সদস্য হিসেবে তারা সংবিধান প্রণয়নের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে তাদের কার্যাবলি সম্পন্ন করবেন। এক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচন ও গণপরিষদ নির্বাচনকে আলাদাভাবে দাঁড় করানোর মতো কোনো পরিস্থিতি নেই।
তিনি বলেন, দুই হাজার শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেছি সে বাংলাদেশকে যেন আমরা আসলেই ধারণ করতে পারি। সেরকম একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদের অবশ্যই যেতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা যেটা মনে করি, পুরোনো কাঠামো বহাল রেখে বাংলাদেশের শাসনপ্রণালী যদি আবার প্রস্তুত হয় সেক্ষেত্রে পুরোনো যে স্বৈরাচারী কায়দা, পুরোনো যে ফ্যাসিবাদী কায়দাগুলো আছে সেগুলো সময়ে সময়ে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসবে। আবারও বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের মানুষকে নানা রকম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কষ্ট, দুঃখ-দুর্দশার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। অতএব বাংলাদেশ যেন সামনের দিনে সুন্দরভাবে পরিচালিত হতে পারে এজন্য পুরোনো কাঠামোগুলোর সংস্কার প্রয়োজন। নতুন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রটার সূচনা প্রয়োজন। যেমনি করে ওয়ালে ওয়ালে এই অভ্যুত্থানের যারা সৈনিকেরা আছেন, তারা লিখেছেন ‘বাংলাদেশ-২.০, নতুন বাংলাদেশ’ সেই নতুন বাংলাদেশের ধারণাকে অবশ্যই প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের সম্মান করা উচিত। তার পক্ষেই প্রত্যেকটা রাজনীতি দলের অবস্থান নেওয়া উচিত।
আখতার হোসেন এদিন দুপুর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এনসিপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন। এ সময় উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুর মহানগরের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি, এনসিপির পীরগাছা উপজেলার সংগঠক শামীম হোসেন, ফারদিন এহসান মাহিম, সোহেল তানভীর প্রমুখ তার সঙ্গে ছিলেন।
মন্তব্য করুন