চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের শয্যায় শুয়ে কাতরাচ্ছে ছোট্ট একটি শিশু। হাতে স্যালাইন লাগানো। কপালে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। হাতেও দেখা যাচ্ছে শুকিয়ে যাওয়া রক্ত। দুই চোখ বন্ধ।
মাঝেমধ্যে এক চোখ কোনোমতে খুলতে পারলেও অপর চোখ খুলতে পারছে না তীব্র যন্ত্রণায়। এক চোখ খুলে কিছুক্ষণ পর পর ফ্যাল ফ্যাল করে চারদিকে তাকায়। বিড়বিড় করে কারও সন্ধান জানতে চায়। আবার চোখ বন্ধ করে ফেলে। শয্যায় শুয়ে কাতরানো শিশুটির নাম আরাধ্য বিশ্বাস।
বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সড়ক বাস ও মাইক্রোবাসের মধ্যে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় সে। একই দুর্ঘটনায় তার বাবা দিলীপ বিশ্বাস (৪৩), মা সাধনা বিশ্বাস (৩৭) ও মামা আশীষ মন্ডল (৫০) ঘটনাস্থলেই মারা যান।
৬ বছরের ছোট্ট আরাধ্য এখনও জানে না যে তার মা-বাবা আর বেঁচে নেই। দিলীপ বিশ্বাস (৪৩), সাধনা বিশ্বাস দম্পতির একমাত্র কন্যা আরাধ্য বিশ্বাস। তাদের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপার গোয়ালিয়া গ্রামে। ঈদের ছুটিতে তারা কক্সবাজারে বেড়াতে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
নিহত দিলীপ বিশ্বাসের বন্ধু ও হিন্দু, বৌদ্ধ কল্যান ফ্রন্টের সহসাংগঠনিক সম্পাদক শোভন কুমার কাজল কালবেলাকে বলেন, দিলীপ বিশ্বাসের বাড়ি আমাদের একই গ্রামে। সে গাজীপুরে একটি বায়িং হাউজের ব্যবসা করত। ঈদের বন্ধে তারা কক্সবাজারে বেড়াতে যাচ্ছিলেন।
একই দুর্ঘটনায় আহত আরাধ্য বিশ্বাস ছাড়াও অজ্ঞাত আরেকজন তরুণীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থাও গুরুতর। হাসপাতালে আনার পর জ্ঞান ফেরে আবার চলে যায়। আঘাতের ধরন ও বিস্তারিত জানার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, দুজনই ব্রেনে আঘাত পেয়েছেন। শিশুটির অবস্থা ভালো না। অজ্ঞাত মেয়েটিকে আইসিইউতে চিকিৎসায় দেওয়া হচ্ছে। তার জ্ঞান একবার ফেরে আবার চলে যায়।
মন্তব্য করুন