নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট নিরসনের দাবিতে পদযাত্রা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন থেকে পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রকল্প প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুরে চরবাটা খাসের হাট রাস্তার মাথা ও হারিছ চৌধুরী বাজার থেকে চরজব্বার ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিক মহাসড়ক পরিভ্রমণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছে মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা সুপেয় পানির সংকট নিরসনে কৃষিবান্ধব নীতি প্রণয়ন, পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, বোরো ধান নির্ভরশীলতা কমিয়ে রবিশস্য উৎপাদনে কৃষকদের প্রণোদনা প্রদান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানান। এ ছাড়া খাল পুনঃখনন, সরকারি খাস দিঘি উদ্ধার ও সংরক্ষণ, পুকুরের পানি যথাযথ ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য সামাজিক বনায়ন প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। একইসঙ্গে পানির সংকট নিরসনে সমন্বিত ড্যাম ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
চন্দ্রকলির নির্বাহী পরিচালক ও পরিবেশ কর্মী মো. শাখাওয়াত উল্লাহর উদ্যোগে আয়োজিত পদযাত্রা ও মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) -এর সহকারী অধ্যাপক মাইন উদ্দিন ফিরোজ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও সাহিত্যিক মোহাম্মদ তরিক উল্লাহ, ছাত্র সংগঠক ও নাজির হাট কলেজের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, সমাজকর্মী তালহা মুহাম্মদ সিফাত উল্লাহ, গবেষক মিজানুর রাকিব, সিনিয়র সাংবাদিক কামাল উদ্দিন, মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, মোহাম্মদ হারুন, ছাত্র সংগঠক দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিইউপির সহকারী অধ্যাপক মাইন উদ্দিন ফিরোজ বলেন, চার লক্ষাধিক মানুষের বসবাস সুবর্ণচরে, যেখানে সুপেয় পানির সংকট চরমে পৌঁছেছে। প্রতিটি পরিবার খাবার ও গৃহস্থালি ব্যবহারের পানি সংগ্রহে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে মরুকরণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত নলকূপ স্থাপনের ফলে সাময়িকভাবে কিছু মানুষ উপকৃত হলেও সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত বছর গুলোতে বোরো চাষের হার বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত পানির চাহিদা তৈরি হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে সকল অংশীজনের সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসা এ মুহূর্তে সময়ের দাবি।
চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাখাওয়াত উল্লাহ জানান, একসময় সুবর্ণচরে তরমুজ, পেঁয়াজ, আলু, রসুন, সূর্যমুখী, সয়াবিন ও বিভিন্ন ডাল চাষ হতো। কিন্তু গত ৮-১০ বছরে বোরো ধানের চাষ ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা অতিরিক্ত পানির চাহিদা সৃষ্টি করছে। কৃষি প্রণোদনা এবং চালের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা ধান চাষে ঝুঁকছেন, এতে ভূগর্ভস্থ পানির সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
তিনি বলেন, নোয়াখালী একসময় খালের দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে খাল দখল ও দূষণের শিকার হয়েছে। ফলে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। খাল পুনঃখনন ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করলে পানির সংকট নিরসন করা সম্ভব।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সুবর্ণচরের পানি সংকট নিয়ে কার্যকর গবেষণা পরিচালনার দাবি জানান। এ ছাড়া পানির সংকট নিরসনের লক্ষে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি করার আহ্বান জানান।
তারা আরও বলেন, উক্ত কমিটি সমস্যা নিরসনে নির্ধারিত সভা আয়োজন করবে, মেয়াদ ভিত্তিক বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে এবং কৃষকসহ নাগরিক সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
মন্তব্য করুন