কুমিল্লার তিতাস উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতির পিতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে আহত করেছে জসিম মিয়া নামের এক যুবক ও তার লোকজন। এ ঘটনায় গৌরীপুর-হোমনা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ সাধারণ ছাত্র-জনতা ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল ৯টায় উপজেলার কড়িকান্দি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত স্বপন মিয়া (৫০) উপজেলার কড়িকান্দি ইউনিয়নের কলাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও তিতাস উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিমের পিতা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে উপজেলা সদর কড়িকান্দি গ্রামের সফিক মিয়ার ছেলে জসিম ও তার লোকজন গ্রামের চকের সরকারি পানির পাম্পের পাইপ চুরি করতে যায়। সেখানে তাদের স্থানীয় গ্রামবাসী বাধা দিলে তারা চলে যায়। পরে গ্রামবাসীর সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিমের পিতা স্বপন মিয়া উপস্থিত থাকায় তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তার জমির আবাদি ভুট্টাক্ষেত কুপিয়ে নষ্ট করে জসিমের লোকজন।
এ নিয়ে পরের দিন জসিমের সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয় স্বপন মিয়ার। তারই জেরে বুধবার সকাল ৯টায় স্বপন মিয়া বাজারে গেলে জসিম মিয়া দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী আহত স্বপন মিয়াকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত জসিম মিয়াকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১১টা পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা গৌরীপুর-হোমনা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ সাধারণ ছাত্র-জনতা ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
পরে তিতাস থানার ওসি মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলে অবরোধকারীদের আশ্বস্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।
তিতাস থানার ওসি মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ কালবেলাকে জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবি অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশ্বস্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সড়কের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করি। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় মাহাবুব নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। জসিমকেও আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন